জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দিনাজপুরে রাহুল হত্যা মামলায় সাবেক বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিমসহ ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) পেশ করেছে পিবিআই।
বুধবার বিকেলে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুর পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগপত্রে তালিকাভুক্ত আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফুজ্জামান মিতা, সহ সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আবু ইবনে রজব, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক ও শেখপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম, শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাসহ ১৫৬ জন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় পৃথক ৩টি হত্যা মামলা কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা হয়। ওই পৃথক তিনটি মামলা একই ঘটনায় দায়ের হওয়ায়, একত্রে তদন্ত কার্যক্রম চালানোর জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে কার্যক্রম শুরু করা হয়। মামলা তদন্ত কার্যক্রমে প্রাপ্ত আলামত, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও সার্বিক বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য পিবিআই পুলিশ সদর দপ্তরে চার্জশিট দাখিলের জন্য পেশ করা হয়। গত ২৭ নভেম্বর দিনাজপুর সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৫৬ জন আসামির বিরুদ্ধে বিচারের জন্য চার্জশিট পেশ করা হয়।
সূত্রটি জানায়, মামলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ৫৯ জনকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আলামত হিসাবে শহীদ রবিউল ইসলাম রাহুলের শরীর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা ছররা গুলি, তাঁর পরনের রক্তমাখা জামা কাপড়সহ অন্য আলামত জব্দ করে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
মামলার চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়, গত বছর ৪ আগস্ট দিনাজপুর জেলা স্কুলের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার একটি মিছিল রাস্তা দিয়ে দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় আসামিদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ উসকানি, প্ররোচনা ও তাদের নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্র-শস্ত্রসহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
আসামিদের হামলায় জুলাই যোদ্ধা রবিউল ইসলাম রাহুলসহ, সাব্বির ইসলাম, মুসলিম, রিয়াদ, পারভেজ, জনিসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভর্তিতে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
গুরুতর আহত রাহুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে, ওই বছরের ৭ আগস্ট রাতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ৯ আগস্ট রাহুল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রবিউল ইসলাম রাহুল (২১) দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের বিদুরসাহি গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের পুত্র। তিনি সদর উপজেলার রানীগঞ্জ ইয়াহিয়া হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।