যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা এবং তার আশপাশের আকাশসীমাকে বন্ধ ঘোষণা করা উচিত। নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ক আরও সংকটময় করে তুলেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এতে দ্রুত সামরিক সংঘাতও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শনিবার ট্রুথ সোশ্যাল–এ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘সব এয়ারলাইন্স, পাইলট, মাদক ব্যবসায়ী ও মানবপাচারকারীদের বলছি—ভেনেজুয়েলার ওপর এবং চারপাশের আকাশসীমাকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করুন।’ তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী জাহাজও রয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য মাদক পাচার দমন করা। কিন্তু কারাকাস বলছে, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।
সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার তথাকথিত মাদকবাহী ২০টির বেশি নৌযানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৮০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। তবে যেসব নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, সেগুলো মাদক পাচার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ—এমন কোনো প্রমাণ ওয়াশিংটন প্রকাশ করেনি।
ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় বেসামরিক ফ্লাইট পরিচালনাকারীদের ‘অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ ও ‘বাড়তি সামরিক কার্যক্রম’ সম্পর্কে সতর্ক করে। এই সতর্কতার পর দক্ষিণ আমেরিকার ছয়টি প্রধান এয়ারলাইন্স ভেনেজুয়েলায় ফ্লাইট স্থগিত করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কারাকাস স্পেনের আইবেরিয়া, পর্তুগালের ট্যাপ, কলম্বিয়ার অ্যাভিয়ানকা, লাতাম, গোল এবং তুর্কিশ এয়ারলাইন্সকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ভেনেজুয়েলার অভিযোগ—এয়ারলাইন্সগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদে অংশ নিচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্প ও মাদুরোর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য এক বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় স্থলপথে মাদক পাচার রোধে নতুন পদক্ষেপ ঘোষণার একদিন পরই ট্রাম্প মাদুরোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।