December 1, 2025, 3:57 am
Title :
‘সমুদ্রে অবৈধ ও অতিরিক্ত মৎস্য আহরণে মাছের সংস্থান কমে যাচ্ছে’ দেশের ৩৩ শতাংশ মানুষ রোগাক্রান্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের একমাত্র সমাধান: পোপ লিও সশস্ত্র বাহিনীর বঞ্চিত সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা বেলুচিস্তানে এফসি সদর দপ্তরে হামলা, পাল্টা হামলায় ৩ সন্ত্রাসী নিহত হঠাৎ পাল্টে গেলো বাংলালিংকের লোগো, সামাজিকমাধ্যমে চলছে আলোচনা কক্সবাজারে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা এবং কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার সঙ্গে এবার রেহানা-টিউলিপের রায় সোমবার খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য হাসিনা সরকার দায়ী: রাশেদ খান খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল, কিছুটা ভালোর দিকে: তথ্য উপদেষ্টা

তিন দিন পর কথা বলেছেন খালেদা জিয়া, তবে অবস্থার উন্নতি হয়নি

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, November 30, 2025
  • 26 Time View

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তিন দিন ধরে একই পর্যায়ে রয়েছে। দল ও পরিবারের সদস্যরা আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি সেই ধকল সামলানোর মতো অবস্থায় নেই। মেডিকেল বোর্ড অনুমোদন দিলে দ্রুত তাঁকে বিদেশে নেওয়া হবে। তবে গত বুধবার থেকে খালেদা জিয়া সেভাবে সাড়া দিচ্ছিলেন না। তিন দিন পর আজ শনিবার তিনি দুয়েকটি কথা বলেছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া এক ধরনের গুরুতর শারীরিক পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। ধারাবাহিকভাবে তাঁর কিডনির ডায়ালাইসিস করা হচ্ছে। এর একটি শনিবার রাত ১০টার দিকে শেষ হয়েছে। এতে তাঁর অবস্থার উন্নতি না হলেও স্থিতিশীলতা এসেছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তাঁরা জানান, আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কিডনির কার্যক্ষমতায় স্থিতিশীলতা আনতে হবে। তা না হলে স্থায়ী উন্নতি আসা কঠিন।

২৩ নভেম্বর তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি শুরু হয়। তিনি কয়েক বছর ধরে এই হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন।

মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য জানান, খালেদা জিয়ার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তাঁর শরীর ক্রিয়াশীল আছে। হাত-পা কিছুটা নাড়াচাড়া করতে পারছেন। দুয়েকটি কথাও বলেছেন শনিবার। পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার আলোচনা আছে।

শনিবার বিকেলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জন্য যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো রয়েছে তার মধ্যে ভিসা, সম্ভাব্য একাধিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ঠিক করা নিয়ে আলোচনা ও কাজ চলছে। যদি প্রয়োজন হয় এবং তিনি বিমানে যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত হন; তাহলে এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থাতেই আছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা চলছে। বিদেশের মধ্যে আমেরিকার জনস হপকিনস এবং লন্ডনের লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত আছেন

দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার চীনের একটি চিকিৎসক দল ঢাকায় আসতে পারেতারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সেবাপরামর্শ দেবেন

মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক সমকালকে বলেন, খালেদা জিয়ার হৃৎপিণ্ডেও কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছেপাশাপাশি অগ্ন্যাশয়ের তীব্র প্রদাহে আক্রান্ত হওয়ায় অবস্থা জটিল হয়েছে

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন। গতকাল সন্ধ্যায় অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন সমকালকে বলেন, তিনি স্থিতিশীল (স্টেবল) থাকলেও শঙ্কামুক্ত নন। তবে গত শুক্রবার রাতের তুলনায় কিছুটা ভালো আছেন। অক্সিজেন লেভেল কিছুটা কম রয়েছে।

শনিবার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা জানান তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্ব হাসপাতালের, চিকিৎসাকর্মীর, স্বাস্থ্যকর্মীর। সারা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো যে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, সেটি এখানে করার আয়োজন করা হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থার বিষয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, ওনার অবস্থা গত তিন দিন ধরে একই পর্যায়ে আছে।

জাহিদ বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে তদারক করছেন। তিনি সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে চিকিৎসা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে সৃষ্ট শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর পর দেখা দেয় নিউমোনিয়া। তাঁর কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের সমস্যা ছিল। ফলে একটির চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানান, তারা যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ রাখছেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিচ্ছেন। তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা সমন্বিত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডন কিংবা সিঙ্গাপুর নিতে আগ্রহী। চীনের তরফ থেকেও তাঁকে সে দেশে নেওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে। পরিবার ও দলের তরফ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কুয়েত ও সিঙ্গাপুরে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের ওপর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com