দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক জীবন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি অবিচল থেকে দলের হাল ধরে রেখেছিলেন। বিশেষ করে দলীয় প্রধান কারাবন্দি থাকা এবং তারেক রহমান প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও রাজপথের কর্মসূচিতে সরব থেকে তিনি নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ছাত্রজীবনেই বাম ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া রিজভী পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় রাজনীতির মূলধারায় প্রবেশ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা বহুবার কারাবরণ ও আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবু নয়াপল্টনের কার্যালয় থেকে এক মুহূর্তের জন্যও পিছু হটেননি তিনি, যা তাকে দলের একজন নির্ভরযোগ্য কান্ডারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০২৬ সালে তার রাজনৈতিক জীবনে বড় পরিবর্তনের জোয়ার আসে। স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শূন্য হওয়া এই পদে রিজভীর নিয়োগকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সংগ্রামের এক যৌক্তিক স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন।