বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে নারী ও শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা এবং কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে নতুন একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম– ‘অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস কোয়ালিশন’। দেশের শীর্ষস্থানীয় সাতটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা একত্রিত হয়ে এই জোট গঠন করেছে।
জোটে অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো হলো– ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, জাগো ফাউন্ডেশন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, অক্সফাম ইন বাংলাদেশ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ।
জোটের সদস্যরা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে– বিশেষ করে নগর, গ্রাম এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরামর্শসভা ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারী ও শিশুদের মতামত এবং তাদের জীবনের বাস্তব চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে একটি ‘পজিশন পেপার’ বা অবস্থানপত্র। এর ভিত্তিতে আগামী ১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সংলাপে বসবে এই জোট।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জোটের মূল লক্ষ্য হলো– দেশের জনসংখ্যার বৃহত্তম অংশ নারী ও শিশুদের কণ্ঠস্বর যেন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে থেকে না যায়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রণীত ইশতেহারেই আগামী বছরের বাজেট, সামাজিক বিনিয়োগ এবং উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারিত হবে। তাই এখনই নারী ও শিশুদের এজেন্ডাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
জোটের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট। দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০.৮ শতাংশ নারী এবং ৩৩ শতাংশ শিশু। অথচ রাজনৈতিক পরিকল্পনায় তাদের চাহিদা প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে।
‘ভিএডব্লিউ সার্ভে ২০২৪’ অনুযায়ী, দেশের ৭০ শতাংশ বিবাহিত নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সঙ্গীর দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন। আবার এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার সর্বোচ্চ (৫১.৪ শতাংশ)। চর, উপকূল ও বস্তি এলাকার শিশু, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় চরম বৈষম্যের শিকার।
বাংলাদেশের জলবায়ু সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বব্যাংকের ‘গ্রাউন্ডসওয়েল রিপোর্ট ২০২১’ অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে, যার প্রধান শিকার হবে নারী ও শিশুরা।
সাত সংস্থার এ জোট তাদের প্রাথমিক পর্যালোচনায় পাঁচটি মূল ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর জোরালো প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন – ১. শিক্ষা; ২. স্বাস্থ্য ও পুষ্টি; ৩. সুরক্ষা; ৪. জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা; ৫. বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি।
জোটের সদস্যরা জোর দিয়ে বলেন, ‘নারী ও শিশুদের কল্যাণ কোনো গৌণ বিষয় নয়; এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক, সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি।’ তারা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন ইশতেহারে কেবল কথার কথা নয়; বরং প্রমাণ-ভিত্তিক, পর্যাপ্ত অর্থায়নসমৃদ্ধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণ করা হয়।