December 1, 2025, 3:49 am
Title :
‘সমুদ্রে অবৈধ ও অতিরিক্ত মৎস্য আহরণে মাছের সংস্থান কমে যাচ্ছে’ দেশের ৩৩ শতাংশ মানুষ রোগাক্রান্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের একমাত্র সমাধান: পোপ লিও সশস্ত্র বাহিনীর বঞ্চিত সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা বেলুচিস্তানে এফসি সদর দপ্তরে হামলা, পাল্টা হামলায় ৩ সন্ত্রাসী নিহত হঠাৎ পাল্টে গেলো বাংলালিংকের লোগো, সামাজিকমাধ্যমে চলছে আলোচনা কক্সবাজারে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা এবং কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার সঙ্গে এবার রেহানা-টিউলিপের রায় সোমবার খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য হাসিনা সরকার দায়ী: রাশেদ খান খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল, কিছুটা ভালোর দিকে: তথ্য উপদেষ্টা

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবতা কোথায়?

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, November 29, 2025
  • 58 Time View

 

জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত অঙ্গীকার, উন্নয়নের নানাবর্ণের স্বপ্ন এবং পরিবর্তনের আশ্বাস জনগণের মনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করে। কিন্তু ভোট শেষে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়ালে দেখা যায়—প্রতিশ্রুতির সোনালি শব্দ আর বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে অদ্ভুত এক দূরত্ব রয়ে গেছে।
নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি থেকে জনগণ আসলে কি চায়?
জনগণ মূলত তিনটি জিনিস জনপ্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যাশা করে—
প্রথমত নিরাপত্তা, দ্বিতীয়টি অর্থনৈতিক উন্নতি ও কর্মসংস্থান এবং তৃতীয়টি অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন।

বাস্তবতা অর্থে জনগণের আকাঙ্ক্ষা থাকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান ও স্থিতিশীল জীবনের; কিন্তু অনেক সময় রাজনৈতিক এজেন্ডা ও ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ সেই প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে যায়। তাই প্রশ্ন জাগে—নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির রঙিন কাগজ কোথায় ছিঁড়ে যায়? আর জনগণের বাস্তব আকাঙ্ক্ষার স্থান ঠিক কোন প্রান্তে গিয়ে ঠেকে?

জাতীয় নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো নানা প্রতিশ্রুতি দেয়—উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমন, স্বাস্থ্য-শিক্ষার উন্নতি ইত্যাদি। কিন্তু ভোট শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর অনেকটাই বাস্তবে আর প্রতিফলিত হয় না।

প্রশ্ন ওঠে তাহলে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার এই দূরত্বের মূল অন্তরাল কোথায়?
মূলত কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে আসে—

১. রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি
প্রতিশ্রুতি পালনের প্রতি দলের আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা প্রায়ই সীমিত।
২. দলীয়করণ ও দুর্বল জবাবদিহি কাঠামো
প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি
রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সুযোগের অপব্যবহার মানুষের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণে বড় অন্তরায়।

৪. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব
নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো অনেকসময় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ভিত্তিতে হয় না—তাই বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়ে।

৫. জনসম্পৃক্ততার অভাব
নীতি নির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ না থাকায় প্রত্যাশার সাথে ফল মিলেনা।
৬. রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক সীমাবদ্ধতা
বাজেট, অবকাঠামো, দক্ষ জনবলের অভাবও অনেক সময় লক্ষ্য পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এসবের পাশাপাশি আমার দৃষ্টিতে আরেকটি বড় কারণ হলো নির্বাচনীয় ব্যয়। একটি জাতীয় নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে প্রচার–প্রচারণা, জনসভা, মাঠপর্যায়ে কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং ভোটারদের নানা ধরনের আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ মোট ব্যয়ে শত কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দলের মনোনয়ন পেতেও বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়।
নির্বাচনী এই ব্যবসায় প্রার্থীদের পাশে এসে দাঁড়ালেন সমাজের প্রভাবশালী বিদ্যমান ভিআইপিরা তারা এমপি কে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় বড় অংকের আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন নিজেদের স্বার্থে জন্য।
ফলে একজন নির্বাচিত এমপি নির্বাচনের পরপরই তার “ইনভেস্টমেন্ট” নির্বাচনী এলাকা থেকেই তুলে নেওয়াকে প্রধান কর্তব্য মনে করেন।
আর নির্বাচনের প্রচার প্রচারণায় ইনভেস্টমেন্ট করেছিলেন তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া।
আর এর ফলেই অধিকাংশ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অকালেই বাস্তবতার আগেই নিঃশেষ হয়ে যায়।

সমস্যা উত্তোলনের কার্যকর উপায়
১) প্রতিশ্রুতিকে ‘পরিমাপযোগ্য’ (Measurable) করার দাবি যেমন- লক্ষ্য, সময়সীমা, প্রয়োজনীয় বাজেট, বাস্তবায়ন রূপরেখা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে বাধ্য করা।
২) নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও সিভিল সোসাইটি পর্যবেক্ষণ
নির্বাচনী ঘোষণাপত্র পর্যবেক্ষণ করে বছরে অন্তত একবার মূল্যায়ন রিপোর্ট প্রকাশ।
যেমন—
“দলটি ১০টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে কতটি বাস্তবায়ন করেছে?”
৩) গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতা
গণমাধ্যমকে “প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা” নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানমূলক রিপোর্ট করতে উৎসাহ ও চাপ সৃষ্টি করা।

৪) ডিজিটাল নাগরিক মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম
যেখানে জনগণ নিজের এলাকা ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিজেই আপডেট করতে পারে।
৫) আইনগত সংস্কার—পূরণযোগ্যতা যাচাই
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মিথ্যা বা অযৌক্তিক প্রতিশ্রুতি দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত জবাবদিহি তৈরি করা যায়।
(অনেক দেশে এ ধরনের Initiatives আছে।)

৬) রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন—চাহিদাভিত্তিক রাজনীতি
রাজনীতিকে জনপ্রিয়তাভিত্তিক প্রতিশ্রুতি নয়, সরকারি নীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, ও জনগণের বাস্তব সমস্যা ভিত্তিতে নীতি প্রণয়নে চাপ তৈরি করা।
৭) জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি
জনগণকে শেখানো—
কেবল বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেখে ভোট নয়,
কী বাস্তবায়নযোগ্য—কী অযৌক্তিক—কী ব্যয়ের উৎস—কী পরিকল্পনাহীন,
সেগুলো বুঝে ভোট দেওয়া।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যকার বিস্তর ব্যবধান শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনের সংকট নয়, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুতর চ্যালেঞ্জ। জনগণের আকাঙ্ক্ষা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু অযৌক্তিক অঙ্গীকার, পরিকল্পনাহীনতা, নির্বাচন ব্যয়ের চাপ এবং জবাবদিহির দুর্বলতায় প্রতিশ্রুতিগুলো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই এই সমস্যার সমাধান শুধু সরকার বা কোনো একক প্রতিষ্ঠান নয়—জনগণ, সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল—সব পক্ষের যৌথ দায়িত্ব। প্রতিশ্রুতি যেন জনপ্রিয়তার হাতিয়ার না হয়ে উন্নয়ন ও সুশাসনের বাধ্যতামূলক নীতিমালা হয়—এমন কাঠামোই ভবিষ্যতের রাজনীতিকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনগণের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে।

মিসবাহ উদ্দিন আহমদ
নিউইয়র্ক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com