January 15, 2026, 8:31 pm

নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোদের নজরদারিতে রেখেছে সরকার

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, January 7, 2026
  • 23 Time View

নির্বাচনের বিষয়ে যারা এখনো সন্দেহ ও সংশয় ছড়াচ্ছেন, তাদের সরকার নজরদারিতে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়া ও নিবন্ধনের সংখ্যা, ‘ভোটের গাড়ি’র প্রচারণাসহ নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

প্রেস সচিব বলেন, যারা এখনও সংশয় তৈরি করছে, তাদের প্রোফাইল সরকার স্পষ্টভাবে জানে। তারা আগে কী ছিল, তাদের ভূমিকা কী ছিল? তারা কেন সংশয় ছড়াচ্ছেন? নির্বাচনের ৩৭ দিন বাকি আছে। আমরা মনে করি আমরা খুবই ভালোভাবে প্রস্তুত আছি। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মবিশ্বাস আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। কারণ সম্প্রতি বাংলাদেশের ইতিহাসের তিনটি বড় ইভেন্ট- শরীফ ওসমান হাদির জানাজা, তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ এবং বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সফলভাবে নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে।

গণভোটে অংশগ্রহণ বাড়াতে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ৪ লাখ মসজিদ, অসংখ্য মন্দির ও গির্জার মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কাজ চলছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নেটওয়ার্ক গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় এই বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। ‘হ্যাঁ’ ভোটটা এবার গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই গণভোটের মাধ্যমে পুরো ১০০ বছরের বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা থাকবে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে, আমাদের নিরাপত্তা যারা দেখেন, যে এজেন্সিগুলো তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। যাদের যাদের নিরাপত্তা দরকার, তাদের অনেককেই গানম্যান দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিরাপত্তা অবশ্যই আমাদের একটা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেটা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। বিশেষ করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এটা নিয়ে খুব কাজ করছে। আর এরপরও যদি স্থানীয় পর্যায় থেকে তারা নিরাপত্তা চান, সেটা পুলিশ অবশ্যই খতিয়ে দেখবে- তাদের কতটুকু প্রয়োজন।

গত সোমবার সন্ধ্যায় যশোরের মনিরামপুরে রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) নামের এক বরফকল ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনা চরমপন্থী রাজনীতি ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে। রানা প্রতাপ যশোরের কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। মনিরামপুরের কপালিয়া বাজারে তাঁর বরফ তৈরির একটি কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবর নামের একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।

ফয়েজ আহম্মদ বলেন, যশোরে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরে সেটিকে একজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে এবং তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যিনি খুন হয়েছেন তিনি ইতিমধ্যে একটি হত্যা মামলার আসামি, আওয়ামী লীগ…তিনি দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনা চরমপন্থী রাজনীতি ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে।

এ বিষয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের ধর্মীয় ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক নেই বলে জানান ফয়েজ আহম্মদ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com