ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দীর্ঘ দশকের সংঘাতের সমাধান হিসেবে আলাদা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাথলিক ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় নেতা পোপ লিও। রবিবার তিনি ভ্যাটিকানের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তুরস্ক থেকে লেবাননগামী ফ্লাইটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পোপ লিও বলেন, আমরা সবাই জানি, এই মুহূর্তে ইসরায়েল এখনও সেই সমাধান মেনে নিচ্ছে না। কিন্তু আমরা এটিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখি।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইসরায়েলেরও বন্ধু এবং দুই পক্ষের মাঝে মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখতে চাই, যাতে সবার জন্য ন্যায়সংগত সমাধানের দিকে এগোনো যায়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি আবারও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন। এতে তাদের সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। ওয়াশিংটন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষেই ইঙ্গিত দিয়েছে।
মে মাসে ১৪০ কোটি সদস্যের ক্যাথলিক চার্চের প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পর তুরস্কই ছিল পোপ লিওর প্রথম বিদেশ সফর। বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তুরস্কতে অবস্থান শেষে আট মিনিটের সংক্ষিপ্ত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ও ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত নিয়েও কথা বলেছেন। উভয় যুদ্ধের অবসানে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তুরস্ক সফরকালে পোপ লিও সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকা রক্তক্ষয়ী সংঘাত মানবজাতির ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলছে। তিনি ধর্মের নামে সহিংসতারও নিন্দা জানান।
গাজার সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলকে সাধারণত কূটনৈতিক ভাষায় সমালোচনা করলেও চলতি বছর পোপ লিওর সেই সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তুরস্ক মূলত মুসলিমপ্রধান দেশ হলেও এখানেই বসবাস করেন বিশ্বের ২৬ কোটি অর্থোডক্স খ্রিস্টানের আধ্যাত্মিক নেতা ইক্যুমেনিকাল প্যাট্রিয়ার্ক বারথলোমিউ। ধর্মীয় সহাবস্থানের উদাহরণ হিসেবে তুরস্কের প্রশংসা করে পোপ বলেন, ভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে। বিশ্বের সর্বত্রই আমরা এ ধরনের উদাহরণ দেখতে চাই।
পোপ লিও মঙ্গলবার পর্যন্ত লেবাননে অবস্থান করবেন। এরপর তিনি রোমে ফিরে যাবেন।