রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান তৌসিফ (১৫) হত্যা মামলার আসামি লিমন মিয়ার (৩৪) আরও পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ এ হাজির করা হয় লিমন মিয়াকে। এ সময় আরও ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজপাড়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মো. আশিকুর রহমান আসামি লিমন মিয়ার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে হত্যা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন রাজপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম।
এদিকে গত ১৫ নভেম্বর লিমন মিয়াকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। ওইদিন শুনানি শেষে আদালত লিমন মিয়ার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আগের পাঁচদিনের রিমান্ডের মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি লিমন মিয়ার পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালতে রিমান্ডের শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আশরাফ মাসুম।
রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কোর্ট পরিদর্শক আব্দুর রফিক জানান, রাজপাড়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান নিজেই আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন।
আসামি লিমন মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড় চকপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম সোলাইমান শহিদ। লিমন মিয়া সাবেক সেনা সদস্য। ২০১৮ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি ত্যাগ করে বাড়িতে যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে পরিচিতির পর তাকে মাঝে মাঝে আর্থিক সহায়তা করা হতো। একপর্যায়ে সেটি বন্ধ করে দিলে লিমন মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৩ নভেম্বর বিকালে রাজশাহী নগরের ডাবতলায় বিচারকের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে বিচারকের ছেলে তাওসিফ রহমান তৌসিফকে হত্যা এবং তার মা তাসমিন নাহার লুসিকে (৪৪) ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করেন। গত ১৪ নভেম্বর বিচারক নিজে বাদী হয়ে লিমন মিয়াকে আসামি করে রাজপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামি লিমন মিয়া। ঘটনার দিন আসামি লিমন মিয়া নিজেও আহত হন। ফলে তাকেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ হাসপাতাল থেকেই লিমন মিয়াকে গ্রেফতার করে।