নিউজ ডেস্ক:
গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপনে আলোচনা সভা, বিজয়ের রোডশোসহ সারাদেশে দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ কর্মসূচি– ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোডশো’।
গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। সুতরাং কালুরঘাট আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য অংশ।
ঐতিহাসিক এ কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকেই শুরু হবে বিএনপির এবারের ‘বিজয় মাস’ উদযাপন কর্মসূচি। ১ ডিসেম্বর (আগামীকাল) চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বিজয় মশাল যাত্রা শুরু করবে এবং একই দিন চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে গিয়ে পৌঁছাবে। বিজয় মিছিলের মশাল বহন করবেন ১৯৭১ সালের একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০১৪ সালের একজন জুলাইযোদ্ধা। আমরা মনে করি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ হলো দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার।
বিএনপি মহাসচিব জানান, চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুরে বিজয় মশাল রোডশো এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিভাগে মশাল বহন করবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন জুলাইযোদ্ধা।
দুই সপ্তাহের এ বিশেষ কর্মসূচিতে রয়েছে– বিভিন্ন বিভাগের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন; জাতীয় সংগীত, মুক্তিযুদ্ধের গান, দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন; স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ প্রচার; জাসাসের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডকুমেন্টারির প্রদর্শন। সেই সঙ্গে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি। এ পুরো আয়োজনে বিএনপির থিম সং– ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
তিনি জানান, দেশের সব বিভাগ ঘুরে বিজয় মশাল সবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবে। ওইদিন ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোডশো’। বিজয়ের মাস উপলক্ষে এ বিশেষ কর্মসূচি ছাড়াও আরও অন্যান্য কর্মসূচি উদযাপন করা হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের জাতীয় নির্বাচন দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে এক বিশাল সুযোগ।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সাধারণ সম্পাদক একেএম কামরুজ্জামান নান্নু এবং বিজয়ের রোডশো কর্মসূচি উদযাপন কমিটির সদস্য জুবায়ের বাবু উপস্থিত ছিলেন।