বিসিবি ইন্টিগ্রিটি দলকে লাগামহীন স্বাধীনতা দেওয়ায় ব্রেক ফেল গাড়ির মতো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। ইন্টিগ্রিটি দলে নবাগত বেশির ভাগ কর্মকর্তা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না বলে দাবি ক্রিকেটারদের। ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও আতিক ফাহাদ বিসিবি ইন্টিগ্রিটি দলের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনেছেন গত শুক্রবার। বিপিএলে খেলা বিদেশি ক্রিকেটারদের নোটিশ ছাড়া ফোন কেড়ে নেওয়া, যখন তখন রুমে হানা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। ড্রেসিংরুমেও নিরাপদ বোধ করছেন না খেলোয়াড়রা।
বিসিবি ইন্টিগ্রিটি দলের বিপক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন ঢাকার সিইও। সিলেট টাইটান্স, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মতো দলগুলো থেকে ইন্টিগ্রিটি কর্মকর্তাদের বেপরোয়া আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হয়েছে। ৭ জানুয়ারি জাতীয় দলের একজন অধিনায়ক জানান, ম্যাচ রেফারির অনুমতি ছাড়া ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করতে পারবে না ইন্টিগ্রিটি দল। বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে কখনও ইন্টিগ্রিটি দলের কোনো সদস্যকে ডাগআউটে বসে থাকতে দেখা যায়নি। ড্রেসিংরুমে গেলেও হায় হ্যালো বলে চলে গেছেন বলে জানান জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার। বিপিএলে সে নিয়মের তোয়াক্কা না করে খেলোয়াড়দের ডাগআউটে ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের সদস্যদের বসে থাকতে দেখা গেছে।
ম্যাচের আগে ঢাকার ওপেনার সাইফ হাসানকে বিব্রত করেছেন বলেও অভিযোগ। ঢাকা দলের সিইওর অভিযোগের ভিত্তিতে ইফতেখার রহমানের কাছে নৈতিক-অনৈতিকের প্রশ্ন তোলা হলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ নিয়ে কিছু বলার নেই। ইন্টিগ্রিটি দল হচ্ছে একটা স্বাধীন ইউনিট। আমরা তাদের সাহায্য নিচ্ছি। গাইডলাইনে যা আছে, তারা সেটা মেনে কাজ পরিচালনা করছে। বিশ্বকাপে কিংবা অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে যেভাবে হয়, বাংলাদেশেও সেটাই অনুসরণ করা হচ্ছে।’
মিঠুর এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন ঢাকার একজন ক্রিকেটার। তিনি বলেন, ‘যেদিন অশোভন কিছু ঘটবে, সেদিন বিসিবি অনুধাবন করতে পারবে আকসু কতটা বেপরোয়া। আমরা তো ১০ থেকে ১২ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেলেছি। এ রকম কিছু ঘটতে দেখিনি। আমরা আন্তর্জাতিক নিয়ম জানি। আপনি যেটাই করেন সম্মানের সঙ্গে করতে হবে। অসম্মান কিন্তু বিদ্রোহের জন্ম দেয়।’
বিপিএল শুরুর আগে অ্যালেক্স মার্শাল পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের সাক্ষাৎকার নিতে পারলেও একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে পাত্তা পাননি। ক্ষমতাবান হওয়ায় বিষয়টি চেপে গেছে তারা।