August 17, 2026, 6:48 pm
Title :
খালেদা জিয়ার আদর্শে জনকল্যাণে কাজ করতে হবে: আবু সুফিয়ান হবিগঞ্জে মিছিলের প্রস্তুতিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাহদীসহ আ’ ট’ ক ৩ জুলাই সনদ নিয়ে দ্বন্দ্বের কিছু নেই, সব ডকুমেন্ট দেখুন ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামি খালাস পাবেন, আশা আইনজীবীদের ১৮০ দিনে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের জন্য কাজ করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলুন কথা বলার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে, ঠেকাতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে: নাহিদ ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরাতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার কালুরঘাটের স্বাধীনতা কমপ্লেক্স এখন ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’

ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপারের মানুষের

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, July 1, 2026
  • 101 Time View

দশানী, জিঞ্জিরাম ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভাঙন। গত কয়েক দিনের প্রবল ভাঙনে বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বহু বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। গাছপালা ও ফসলি জমি চলে গেছে নদীতে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপারের বাসিন্দারা। ত্রাণ নয়, ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, গত কয়েক দিনে দশানী নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। পানি বাড়ায় প্রবল স্রোত বইছে নদীতে। স্রোতের কারণে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নদীর ভাঙন। বিশেষ করে মেরুরচর ইউনিয়নের শেখেরচর, মাইছেনির চর, ভাটি কলকিহারা, ফকিরপাড়া, খেওয়ারচর, জাগিরপাড়া, ঘুঘরাকান্দি, বেতমারী, নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের কুশলনগর, সাজিমারা, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইড়মারী, কুতুবেরচর এলাকায় নদীভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতভিটা। গাছপালা ও ফসলি জমি চলে গেছে নদীতে। প্রতিনিয়ত ভাঙনে নদীপারের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। আতঙ্কে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন ঘরবাড়ি, খোলা জায়গায় বাস করছেন অনেকে। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা। এখনও সরকারি-বেসরকারি কোনো সহায়তা পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে ত্রাণ নয়, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চান তারা।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কলকিহারা গ্রামের জিনেত আলী, শাহ কামাল, হোসেন মণ্ডল জানান, গত কয়েক বছরে সাতবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছেন তারা। বসতবাড়ি, ফসলি জমি যা ছিল তা নদীতে চলে গেছে। এবার ভাঙনে ঘরবাড়ি তোলার জায়গাও অবশিষ্ট নেই। খোলা জায়গায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

নদীভাঙন নিয়ে কথা হয় ফকিরপাড়া গ্রামের বিল্লাল, কালাম, মজমত, শরফত আলী, জাগিপাড়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুস, শেখেরচর গ্রামের আতিকুর রহমান ও কুশলনগর গ্রামের মীর কাসেমের সঙ্গে। তারা জানান, পানি কমার সময়ও নদী ভাঙে, বাড়ার সময়ও ভাঙে। এই পর্যন্ত তিন-চারবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন তারা। এবারও ভাঙনের কবলে পড়েছেন। ত্রাণ দিলে সমস্যার সমাধান হবে না, তাদের দরকার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান।

মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, নদী ভাঙলে মানুষ যে কতটা অসহায় হয়ে যায়, তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। পাঁচ-সাতবার করে অনেকের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। জায়গা জমি সব নদীতে। ছেলেমেয়ে নিয়ে তারা এখন খোলা জায়গায় বসবাস করছেন। তাই ত্রাণ নয়, বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের মাধ্যমে ভাঙনের স্থায়ী সমাধান চান এলাকাবাসী।

মেরুরচর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নদীভাঙনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মেরুরচর ইউনিয়নের মানুষ। এখন নদীতে পানি বাড়ছে, যে কারণে ভাঙন বেড়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করবে বলে জানতে পেরেছেন তিনি। এ ছাড়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হচ্ছে। বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের সহায়তা করা হবে।

নিলাক্ষিয়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান জানান, সাজিমারা ও কুশলনগর এলাকায় বেশ কিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতে চলে গেছে ফসলি জমি ও গাছপালা। স্থায়ী সমাধান চান এলাকাবাসী।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে। নদীভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, ব্যবস্থা নেবেন তারা।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খানের ভাষ্য, বাঙালপাড়া ও ঘুঘরাকান্দি এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ চলমান। ভাঙনকবলিত এলাকার তালিকা রয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com