January 15, 2026, 8:31 am

মধ্যপ্রাচ্যের কোথায় কয়টি সামরিক ঘাঁটি আছে যুক্তরাষ্ট্রের?

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, January 14, 2026
  • 18 Time View

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উসকানি দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি হামলার হুমকিও ছুঁড়েছেন। এরপরই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন সামরিক হস্তক্ষেপ করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

এই হুমকি আসে এমন এক সময়ে আসে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘সহায়তা’ করার ঘোষণা দেন। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র কতটি সামরিক ঘাঁটি রেখেছে এবং সেখানে থাকা সেনা ও যুদ্ধাস্ত্র ঠিক কত…

বাহরাইন

মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর মধ্যপ্রাচের এই দেশটিতে। এই বহরের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের অংশবিশেষ। এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

কাতার

দোহার বাইরে মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত আল উদেইদ এয়ার বেস মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। প্রায় ২৪ হেক্টর আয়তনের এই ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা আছে। এটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড-এর ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর, যার আওতায় মিশর থেকে শুরু করে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল রয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এখানে একটি নতুন এয়ার ও মিসাইল ডিফেন্স সমন্বয় কেন্দ্র চালু করা হয়, যা আঞ্চলিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করবে। তবে ইরানের বিক্ষোভের কারণে বুধবারের মধ্যে এখান থেকে কিছু সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কুয়েত

কুয়েতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে। ক্যাম্প আরিফজান মার্কিন আর্মি সেন্ট্রালের ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর। আলি আল সালেম এয়ার বেস ইরাক সীমান্তের কাছে অবস্থিত, ‘দ্য রক’ নামে পরিচিত। ক্যাম্প বুয়েরিং ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় স্থাপিত হয় এবং ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন সেনাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ও স্টেজিং ঘাঁটি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা এয়ার বেস মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এটি আইএসবিরোধী অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর আনুষ্ঠানিক সামরিক ঘাঁটি না হলেও, এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় বন্দর ব্যবহার কেন্দ্র।

ইরাক

ইরাকে মার্কিন বাহিনী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। আইন আল আসাদ এয়ার বেস পশ্চিম আনবার প্রদেশে অবস্থিত। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরবিল এয়ার বেস উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত। এটি প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং লজিস্টিক সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

সৌদি আরব

২০২৪ সালে সৌদি আরবে প্রায় ২,৩২১ জন মার্কিন সেনা অবস্থান করছিল। তারা সৌদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

জর্ডান

আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আজরাকে অবস্থিত মুয়াফ্ফাক আল সালতি এয়ার বেসে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩৩২তম এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং অবস্থান করছে। এখান থেকে লেভান্ত অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।

তুরস্ক

তুরস্কের আদানা প্রদেশে অবস্থিত ইনসিরলিক এয়ার বেস যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক যৌথভাবে পরিচালনা করে। এখানে মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রয়েছে। এটি সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে তুরস্কে প্রায় ১,৪৬৫ জন মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com