বিরোধীদলীয় নেতার নামে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে মন্ত্রী পদমর্যাদায় পদায়ন চাওয়ায় মাহমুদুল হাসানকে দলীয় আমিরের উপদেষ্টা পদ থেকে গত ২ মার্চ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ডা. শফিকুর রহমানের নামে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠিতে মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় পদায়নের প্রস্তাব করা হয়।
এ নিয়ে সমালোচনার পর মঙ্গলবার দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাটি প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। সেই সময়ে ড. মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান জানাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি পাঠানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। কিন্তু তিনি আমিরের নির্দেনার বাইরে কিছু বিষয় যুক্ত করে চিঠি পাঠান। চিঠিতে উল্লেখিত মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত অংশটি আমিরের নির্দেশনায় ছিল না।
গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে শফিকুর রহমান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। মাহমুদুল হাসানকে ২ মার্চ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান মাহমুদুল হাসান। তিনি দলটির নেতা নন, বেতনভুক্ত ছিলেন।
জামায়াতের একাধিক নেতা সমকালকে বলেছেন, শেখ হাসিনার শাসনমালের আওয়ামী লীগের জনসংযোগে কাজ করা মাহমুদুল হাসানকে নিয়োগের সমালোচনা জামায়াতেও ছিল। কিন্তু ঢাকাস্থ দূতাবাসগুলোতে সম্পর্কের কারণে তাঁকে নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে রাখা হয়।
গত ৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন না মাহমুদুল হাসান। সেদিন আমিরের উপদেষ্টা হিসেবে বৈঠকে যোগ দেন ব্যারিস্টার আরমান। সেখানে ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরি। তাকে সম্প্রতি জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।