কমতে শুরু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা। সরকারে দীর্ঘস্থায়ী শাটডাউন সেই সঙ্গে নিউইয়র্কসহ তিন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর তার জনপ্রিয়তার হার অনেকটাই কমে গেছে। নিজ দল রিপাবলিকানদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সমর্থনও হারাচ্ছেন তিনি।
ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই প্রচলিত নিয়ম-নীতি ভেঙে নিজের মতো দেশ চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। বাণিজ্যযুদ্ধ, প্রশাসনিক রদবদল, বিশ্ববিদ্যালয়ে তহবিল কাটা, সব জায়গায় ছিল তার কর্তৃত্বের ছাপ। কিন্তু মাত্র দুই দিনে ট্রাম্পের সেই ‘অবাধ’ ক্ষমতার মূলে নড়াচড়া ফেলেছে রাজনৈতিক ও বিচারিক সিদ্ধান্ত।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কে মেয়র পদে জোহরান মামদানির জয়, ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সাফল্য, ট্রাম্প শিবিরে তৈরি করেছে অস্বস্তি। এই জয়ের মাধ্যমে ট্রাম্পবিরোধী মনোভাব আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ট্রাম্পের দ্রুত সমর্থন হারানোর ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক জরিপে। জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন এবং প্রথম মেয়াদে সর্বকালের সর্বনিম্ন ৩৪ শতাংশের কাছাকাছি।
অর্ধেকেরও বেশি আমেরিকান মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈদেশিক বা পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা ‘বিশ্বে আমেরিকার অবস্থানকে’ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে। যাতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নেয়া জরিপের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন স্পষ্ট।
নির্বাচনের পাশাপাশি ট্রাম্পের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্টও। বিচারকরা জানতে চেয়েছেন, সংবিধান কি সত্যিই প্রেসিডেন্টকে এতটা স্বাধীনতা দেয় যে তিনি এককভাবে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করতে পারেন? আদালতের এই অবস্থান ট্রাম্পের প্রশাসনিক আধিপত্যে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন, তিনি রাজা নন। তবে তার আগের মন্তব্যেই শোনা গেছে তিনি যা চান, তা করার অধিকার আছে