যুদ্ধবিরতি চুক্তি বহাল থাকলেও, ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। রোববার (৯ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।
তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানকে সীমান্ত সংঘর্ষের দায় চাপিয়েছে। তবে তারা নিশ্চিত করেছে, পূর্বে চুক্তিবদ্ধ শান্তি চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে।
শুক্রবার ইস্তাম্বুলে দুই দেশের মধ্যস্থতাকারী আলোচনার ফলাফল শূন্যে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে, তালেবান জানিয়েছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্তে সংঘর্ষে কয়েকজন আফগান নাগরিক নিহত ও আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক সোশ্যাল মিডিয়ার বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দুই দিনের আলোচনায় তারা আশা করেছিলেন পাকিস্তান বাস্তবসম্মত ও প্রয়োগযোগ্য প্রস্তাব দেবে যা একটি মৌলিক সমাধান নিশ্চিত করবে।
মুজাহিদ বলেন, ‘আলোচনার সময় পাকিস্তানি পক্ষ তাদের নিরাপত্তার সমস্ত দায়িত্ব আফগান সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে, তবে একই সঙ্গে আফগানিস্তান বা নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়ার কোনো আগ্রহ প্রদর্শন করেনি।’
তিনি পাকিস্তানের আচরণকে ‘অসহযোগী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এতে আলোচনার কোনো ফলাফল না হওয়ার কারণ তুলে ধরেছেন।
পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তালেবান শান্তি চুক্তি লঙ্ঘন করেনি এবং এটি যথাযথভাবে পালন করা হবে। পাকিস্তানের সরকার এখনও এই বিবৃতিতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) পাকিস্তানও নিশ্চিত করেছে যে আলোচনায় কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি এবং কাতারের মধ্যস্থতায় স্থাপিত শান্তি চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে।
আলাপ-আলোচনার ফলাফল শূন্য থাকলেও সীমান্তে শান্তি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। দুইপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চললেও, তালেবান শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা সীমান্তে সঙ্কট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষক