বাংলাদেশে থাকা যুক্তরাজ্যের ভিসা অফিস সংশ্লিষ্ট নানা প্রতারণা ও স্ক্যামের বিষয়ে সতর্ক করেছে। আকস্মিক কোনো ইমেইল, ফোনকল বা চিঠিতে কেউ যদি নিজেকে ভিসা কর্মকর্তা দাবি করেন। আর ভিসার জন্য অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য চান, তা হলে প্রায় নিশ্চিতভাবে সেটি একটি প্রতারণা। অ্যাম্বাসি কখনোই ফোন, ইমেইল বা সরাসরি যোগাযোগ করে টাকা চাইবে না।
১৭ নভেম্বার ইউকে ইন বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছে, নিরাপদে যুক্তরাজ্যের যেকোনো ধরণের ভিসা আবেদন করতে শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (গভ.ইউকে) ব্যবহার করুন। অনুমোদনহীন কোন সংস্থার সেবা নেয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ তাতে আপনার প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অথবা তারা আপনাকে ভুল তথ্য প্রদান করতে পারে।
ভিসার ক্ষেত্রে প্রতারণা এড়াতে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে অ্যাম্বাসি। এই বিষয়গুলো মেনে চললে এড়াতে পারেন ভিসা প্রতারণা।
কোন কোন কৌশলে প্রতারণা চলছে
প্রতারকরা দাবি করে যে, তারা নাকি খুব সহজে যুক্তরাজ্যের ভিসা দিতে পারে। অথবা ভিসা আবেদন নিয়ে সমস্যার কথা বলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
অনেকে অফিসিয়াল স্টাইলে লেখা ভুয়া নথি বা চাকরির অফার লেটার পাঠায়, যা দেখতে বেশ বিশ্বাসযোগ্য লাগে। এমনকি আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা বা ভিসা আবেদনের তথ্য জেনে নিয়ে আরও বিশ্বস্ততা তৈরির চেষ্টা করে। উদ্দেশ্য একটাই, অর্থ আদায় বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া।
ভুয়া চাকরির প্রলোভন
অনেক ভুয়া ওয়েবসাইট কাল্পনিক চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়। পরে জানায়, চাকরি ‘পেয়েছেন’, এখন ভিসা ফি বা অন্যান্য খরচ পাঠাতে হবে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের ভিসা পদ্ধতিতে এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান টাকা নেয় না। বৈধ নিয়োগদাতা কখনোই ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাতে বলেন না।
ভিসা কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা
প্রতারকরা বাসায় গিয়ে বা ফোন করে নিজেদের ভিসা অফিসার দাবি করে টাকা চান। ভিসা বাতিল, গ্রেপ্তার বা দেশ ছাড়ার হুমকি দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে অর্থ পাঠাতে বলেন। বিশেষ করে মানিগ্রাম বা অন্যান্য অচিহ্নিত আন্তর্জাতিক পেমেন্টের মাধ্যমে।
ওয়ার্ক বা স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীদের টার্গেট
অনেককে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে থাকার প্রমাণ হিসেবে ‘ডিপোজিট’ দিতে হবে। বাস্তবে এমন কোনো অর্থ ভিসা অফিস নেয় না।
ভুয়া এজেন্ট
কেউ কেউ নিজেদের ভিসা কর্মকর্তা বা ভিএফএসের কর্মী পরিচয় দিয়ে জাল নথি দিয়ে ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু জাল নথি জমা দিলে আবেদন সরাসরি বাতিল হয়।
ভুয়া সরকারি ওয়েবসাইট
সরকারি ওয়েবসাইট সব সময় .gov.uk ডোমেনে থাকে। ভুয়া ওয়েবসাইটগুলো দেখতে সরকারি মতো হলেও আসল ঠিকানায় যায় না।
ভুয়া ইমেইল ঠিকানা
ভিসা অফিস বা অ্যাম্বাসির প্রকৃত ইমেইল name.surname@homeoffice.gov.uk-এমন হয়ে থাকে। ইমেইলে ঠিকানা ঠিক মনে হলেও, ‘রিপ্লাই’ করলে অন্য ঠিকানায় চলে যাওয়ার মতো ফাঁদও থাকে। তাই যে ঠিকানায় ইমেইল যাচ্ছে তা ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।
ভিসা অফিস কখনোই ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা চায় না। ভিসা ফি কেবল সরকারি ওয়েবসাইটে পরিশোধ করা যায়।
ভ্রমণে পাসপোর্ট নিরাপদ রাখবেন কীভাবেভ্রমণে পাসপোর্ট নিরাপদ রাখবেন কীভাবে
কীভাবে সাবধান থাকবেন
সন্দেহজনক মনে হলে সতর্ক থাকুন। বিশেষত যদি—
প্রস্তাবটি ‘অতিরিক্ত ভালো’ মনে হয়।
খুব দ্রুত ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
নগদ, ভাউচার বা অচেনা ব্যাংকে টাকা পাঠাতে বলে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা ব্যাংক ডিটেইলস চায়।
গোপন রাখতে বলে বা তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেয়।
ইমেইলে ব্যাকরণগত ভুল, অদ্ভুত লেখা বা ফ্রি ইমেইল (জিমেল, ইয়াহু) থাকে।
সন্দেহ হলে করণীয়
কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
কোনো টাকা পাঠাবেন না।
ই-ভাউচার বা অচিহ্নিত পেমেন্ট করবেন না।
প্রতারণা সন্দেহ হলে কোথায় জানাবেন
যুক্তরাজ্যে থাকলে অ্যাকশন ফ্রডে অভিযোগ জানাতে পারেন। তার জন্য ওয়েবসাইটে রিপোর্ট অথবা ০৩০০ ১২৩ ২০৪০ তে ফোন করতে পারেন। অভিযোগগুলো ন্যাশনাল ফ্রড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়। আর যদি আপনি বিদেশে থাকেন, তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানান।