সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রাই চৌধুরী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী লাঙ্গলবন্দের মহাঅষ্টমী পুণ্যস্নান কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি আমাদের জাতির বহুত্ববাদী সংস্কৃতি, সহাবস্থান এবং সামগ্রিক মানবিক চেতনার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এখানে মানুষের আধ্যাত্মিক সাধনা এবং ঐতিহ্যের যে সম্মিলন ঘটে, তা আমাদের জাতীয় জীবনে গভীর তাৎপর্য বহন করে।
বুধবার (২৫ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে ‘মহাঅষ্টমী পুণ্যস্নান ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যখন বিশ্বজুড়ে বিভাজন ও সংঘাত বাড়ছে, তখন বাংলাদেশ একটি সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে ব্যতিক্রমী উদাহরণ স্থাপন করতে পারে।
তিনি বলেন, লাঙ্গলবন্দের এই বিশাল সমাবেশ সেই সম্ভাবনারই এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। আমাদের সংস্কৃতি, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আমরা বৈশ্বিক ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নয়, বরং নাগরিকদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক সংহতির মধ্যে নিহিত।
একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য এমন একটি সমাজ প্রয়োজন যেখানে মানুষ হবে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু এবং রাষ্ট্র হবে নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধ। মন্ত্রী উপস্থিত সবাইকে এই আধ্যাত্মিক সমাবেশ থেকে আত্মশুদ্ধি ও জাতীয় ঐক্যের নতুন অঙ্গীকার গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ ভক্ত ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।