আগামী এক বছরের জন্য ওবামা কেয়ারে ভর্তুকি বহাল রাখার শর্তে শাটডাউন বন্ধ তথা সরকারের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালুর প্রস্তাবে ডেমোক্র্যাটরা সমর্থন দেবেন।
সিনেট মাইনোরিটি লিডার চাক শুমার শুক্রবার এ কথা জানান।
সিনেট ফ্লোরে তিনি আরও বলেন, তারা সরকারি কার্যক্রম দ্রুত সচল করার পক্ষে ভোট দিতে প্রস্তুত। এর জন্য বিলে স্বাস্থ্যবিমায় করছাড়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান সিনেটররা বলছেন, ডেমোক্র্যাটদের এ প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য। শাটডাউনের প্রায় ৪০ দিনে এসে অচলাবস্থা কাটাতে সিনেটে পরবর্তী পদক্ষেপ এখনও অনিশ্চিত।
সরকারি অর্থ বরাদ্দ স্থগিত থাকলেও ফেডারেল কর্মীদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার বিধানটি উল্লেখ করে শুক্রবার রাতে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত বিলের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল, তবে দিনের শুরুতেই ডেমোক্র্যাটরা বিলটি দ্রুত বিবেচনায় আটকে দেয়। ফলে দুই দলের মধ্যেই বাড়তে থাকে উত্তেজনা।
সরকারের অচলাবস্থা নিরসনে সমঝোতার নতুন প্রস্তাব দেন সিনেট ডেমোক্র্যাটরা। শুক্রবার তারা এক বছরের জন্য স্বাস্থ্যবিমায় করছড় বহাল রাখার শর্তে সরকারের কার্যক্রম আবারও সচল করার প্রস্তাব দেন।
চাক শুমারের মতে, তাদের এ প্রস্তাব সরকারের অচলাবস্থা দ্রুত কাটাতে সহায়তা করবে এবং দেশের শ্রমজীবী পরিবারগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আর্থিকভাবে সহায়তার উপায় হবে এটি।
সমঝোতার টেবিলে সরকারের অচলাবস্থা কাটানোর বিষয়টি এখন পুরোপুরি রিপাবলিকানদের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করেন সিনেট মাইনরিটি লিডার। এটাকে সোজাসাপটা শর্ত বলে উল্লেখ করেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটররা।
দেশের কয়েকশ মিলিয়ন মানুষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বাধ্য করতে ডেমোক্র্যাটদের ওপর নির্ভর করছে বলে জানান সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন।
এ কারণে তারা এ প্রস্তাব থেকে পিছপা হবেন না বলেও জানান তিনি,তবে ডেমোক্রেটদের প্রস্তাবটি সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাখ্যান করে দেন রিপাবলিকানরা।
তাদের মতে, এটা ডেমোক্র্যাটদের তৈরি করা অচলাবস্থা।
সিনেটর রন জনসনের মতে, ডেমোক্র্যাটরা দেশের মানুষ এবং শ্রমজীবী পরিবারগুলো নিয়ে রাজনৈতিক খেলায় মেতে উঠেছে, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ দল রিপাবলিকানরা বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য বলে জানায়।
সিনেট মেজরিটি লিডার জন ঠুন বলেন, এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আলোচনার পর্যায়ে এটা আসে না।
ওই সময় তিনি ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সরকারের অচলাবস্থা না কাটানো পর্যন্ত সিনেটের অধিবেশন চালিয়ে যেতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।