সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে লেনদেন শুরুর প্রথম দুই দিনে মোট ১৩ হাজার ৩১৪ জন গ্রাহক ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা তুলেছেন। একই সময়ে নতুন করে ৪৪ কোটি ৯ লাখ টাকার আমানত জমা পড়েছে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে টাকা উত্তোলনের কোনো অস্বাভাবিক চাপ নেই। নতুন বছরের শুরুর দিন থেকে লেনদেন শুরু হয়েছে। প্রথম দুদিনে টাকা উঠানোর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন আমানত জমা পড়েছে। এটি গ্রাহকের আস্থার প্রতিফলন।
ব্যাংকটির অনেক শাখায় উত্তোলনের চেয়ে জমার পরিমাণ বেশি বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, এটি নতুন ব্যাংকটির প্রতি জনআস্থার স্পষ্ট প্রমাণ। গ্রাহককে আমানতের জন্য কোনো চিন্তা করতে হবে না। ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। গ্রাহকের আমানত পুরোপুরি নিরাপদ।
ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৯৫ শতাংশ গ্রাহকের আমানত দুই লাখ টাকার নিচে। তাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক লেনদেনে কোনো বাধা নেই। বড় আমানতকারীদের জন্য সাময়িক কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও তারা জমার বিপরীতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন করে যারা টাকা জমা দিচ্ছেন, তারা যে কোনো সময় সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর ১৬ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিষয়ে তিনি বলেন, যারা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের চাকরি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। তবে যেসব কর্মকর্তা ঋণ অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ বা ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন; তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আইয়ুব মিয়া বলেন, ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী লেনদেন চলছে। কোথাও কোথাও টাকা উত্তোলনের চেয়ে জমা বেশি হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ হবে। ১৯ জানুয়ারি হবে নতুন ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠান।