দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে সাত ধাপে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তফসিলের রূপরেখা তুলে ধরেন। প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ৮০টি উপজেলায় ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ প্রথম ধাপের ভোটের এলাকা নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলায় উপজেলার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় এই দুই জেলার প্রতিটিতে তিনটি করে উপজেলায় প্রথম ধাপে ভোট হবে। পাশাপাশি, যেসব জেলায় ১০ বা তার বেশি উপজেলা রয়েছে, সেই জেলাগুলোর প্রতিটিতে দুটি করে উপজেলা এই তালিকায় রাখা হয়েছে। আদালতের বিশেষ রায়ের কারণে আরও দুটি উপজেলায় এই প্রথম ধাপে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বাকী উপজেলাগুলোকে বেশি সংখ্যক উপজেলা থাকা জেলাগুলোর সঙ্গে আনুপাতিক হারে সমন্বয় করে প্রথম ধাপের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাতটি ধাপে পুরো নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত সম্ভাব্য তারিখ অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপের ভোট ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া চতুর্থ ধাপে আগামী ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল এবং সর্বশেষ সপ্তম ধাপে আগামী ২৭ মে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, শেষ দুটি ধাপ অর্থাৎ ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপকে কিছুটা হালকা রাখা হবে যাতে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়।