স্ত্রী ও সাত বছরের মেয়ের জন্য রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন রেজাউল নামে এক যুবক।
নিজের স্ত্রী ও সন্তানের জন্য ঘাট এলাকায় আহাজারি করছেন তিনি।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত ১০টা পর্যন্ত) এ ঘটনায় দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ১০/১২ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও বাসে অন্তত ৪৫ জন যাত্রী ছিলো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেজাউল বলেন, রাজবাড়ী থেকে আমার স্ত্রী, দুই মেয়েকে নিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহন বাসে উঠি। ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর আমার ছোট মেয়ে ও আমি স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাড়ে উঠতে পারলেও আমার স্ত্রী ও আমার আরেক মেয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এখন আমার স্ত্রী ও সন্তানের লাশটি আমাকে বুঝিয়ে দেন বলে তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন।
এ বিষয়ে রাজবাড়ীর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা যুগান্তরকে বলেন, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ও পাঁটুরিয়া ইউনিটের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা কাজ করছে, তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পানির নিচ থেকে বাসটি শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য- রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরীঘাটে বিকেলে কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের ঢাকা মেট্রাে-ব-০০২৪ সিরিয়ালের বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে বাসে থাকা রাজবাড়ীর ভবানীপুর লালমিয়া সড়কের রেহেনা পারভীন (৬০) ও মর্জিনা বেগম (৫০) দুইজন নিহত হন। নিহত যাত্রী রেহেনা পারভীনের মেয়ে ডা: নুসরাত সাবা (২০) গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে ভর্তি রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।