কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ইপসউইচ টাউনকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। এই ম্যাচটিতে গানার্সদের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন মাত্র ১৬ বছর বয়সী তরুণ প্রতিভা ম্যাক্স ডোম্যান। তার অসাধারণ জোড়া গোলের সুবাদেই মূলত সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয় উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। এই জয়ের মাধ্যমে ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হিসেবে নিজের সামর্থ্যের জোরালো প্রমাণ দিলেন এই উঠতি ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ডোম্যান এবং পোর্টম্যান রোডে খেলতে নেমে ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটের মাথায় তিনি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে প্রথম গোলটি করেন। বল ছিনিয়ে নেওয়ার পর সতীর্থের সঙ্গে পাস আদান-প্রদান করে তিনি নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই আর্সেনালের দ্বিতীয় গোলেও সরাসরি ভূমিকা রাখেন এই কিশোর ফুটবলার। তার নান্দনিক আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং ইপসউইচের রক্ষণভাগের ওপর তৈরি করা প্রবল চাপের মুখেই ব্যবধান দ্বিগুণ করতে সমর্থ হয় আর্সেনাল।
বিরতির পর মাঠেই নেমে নিজের গোলক্ষুধার আরও একটি দারুণ নিদর্শন রাখেন ম্যাক্স ডোম্যান। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের মাথায় মার্টিন জুবিমেন্দির পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের দারুণ শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এই জোড়া গোলের সুবাদে বিরল এক রেকর্ডের মালিক বনে যান এই তরুণ, যা এর আগে ২০০২ সালে গড়েছিলেন কেবল কিংবদন্তি ওয়েন রুনি। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর প্রিমিয়ার লিগের কোনো দলের হয়ে কোনো ষোলো বছর বয়সী খেলোয়াড়ের জোড়া গোল করার এটি প্রথম ঘটনা।
ম্যাচের বাকি অংশজুড়ে দুদলের আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চকর লড়াই চলতে থাকে এবং আর্সেনালের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন মিকেল মেরিনো। এরপর ইপসউইচ টাউন ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং পরপর দুটি গোল শোধ করে ব্যবধান ৪-২ করে। তবে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত আর কোনো অঘটন ঘটতে দেয়নি আর্সেনাল। কোচ মিকেল আর্তেতার ছুঁড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জ লুফে নিয়ে ডোম্যান যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তাতে ১৭তম জন্মদিনের আগেই ইংলিশ ফুটবলে তাকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ এখন আকাশচুম্বী।