বরিশালের বানারীপাড়া ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার দিনে তিন হাজার দিনের উপস্থিতির স্বাক্ষর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও খবরের কাগজের হাতে এসেছে। ওই শিক্ষকের নাম আসাদুজ্জামান। ২০১৪ সালে তাকে বানারীপাড়া ডিগ্রি কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ (ইসলামিক শিক্ষা) বিভাগের প্রভাষক পদে সাময়িক নিয়োগ দেওয়া হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, আসাদুজ্জামান প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষের সামনে বেঞ্চে বসে হাজিরা খাতায় উপস্থিতির ঘরে স্বাক্ষর করছেন। তার পাশে আরও কয়েকটি হাজিরা খাতা পড়ে আছে।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পুরোনো খাতায় কীভাবে স্বাক্ষর করবেন, আসাদুজ্জামান একজনের কাছে সে বিষয়ে পরামর্শ চাচ্ছেন।
কলেজ সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেয় বানারীপাড়া ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওই সময়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানো হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার শেষে ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যরা আসাদুজ্জামানকে নিয়োগের সুপারিশ করেন। তাকে প্রভাষক পদে সাময়িক নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভাগটি চালুর অনুমোদন মেলেনি। ফলে সরকারিভাবে ও কলেজ ফান্ড থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছিলেন না আসাদুজ্জামান। এরপর ২০১৫ সাল থেকে তিনি কলেজে আসা-যাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের প্রশাসন শাখার এক কর্মকর্তা জানান, আসাদুজ্জামান গত ১০ বছর কলেজে আসেননি। তাই হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর করা হয়নি। এমনকি হাজিরা খাতায় তার নামও ছিল না। গত সপ্তাহে অধ্যক্ষের নির্দেশে পুরোনো সব হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আসাদুজ্জামান চার দিনে গত ১০ বছরের তিন হাজারেরও বেশি কার্যদিবসের উপস্থিতির স্বাক্ষর করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ চালুর বিষয়ে খোঁজখবর নিতে আসাদুজ্জামান বছরে দু-একবার কলেজে আসতেন। বিভাগটি চালুর বিষয়ে সরকারের একটি টিম কলেজ পরিদর্শনে আসবে, এ খবর পেয়ে আসাদুজ্জামান সম্প্রতি অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর অধ্যক্ষ তাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার ব্যবস্থা করে দেন।
বিশেষ সুবিধা এবং বিশেষ একটি দলের সুপারিশে অধ্যক্ষ এমন কাজ করছেন বলে জানান ওই শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে কথা বলতে আসাদুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তিনি কল রিসিভ করেননি। এরপর তার মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। আসাদুজ্জামান তারও কোনো উত্তর দেননি।
বানারীপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আফরোজা বেগম খবরের কাগজকে বলেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার প্রস্তুতি চলছে।
আসাদুজ্জামানের তিন হাজার দিনের উপস্থিতির হাজিরা স্বাক্ষরের বিষয় জানতে চাইলে অধ্যক্ষ রেগে যান। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পারলে কলেজে এসে প্রমাণ দেখান।’ এসব কথা বলে তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক জাহিদ হোসেন বলেন, বিনা অনুমতিতে দীর্ঘ অনুপস্থিত থাকলে সাধারণত শিক্ষকের নিয়োগ কার্যকর থাকে না। দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। যদিও কিছু ক্ষেত্রে অনুপস্থিত শিক্ষককে পুনর্বহাল করার ঘটনা ঘটে, যা নিয়মবহির্ভূত। তিন হাজার দিনের স্বাক্ষর চার দিনের দেওয়া অর্থ হলো এখানে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।