সত্তর পূর্ণ করল জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমি। এতটা সময় পেরিয়ে নানান সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বাংলা একাডেমির সঞ্চয়ও কম নয়। সাত দশকের পথচলায় এ প্রতিষ্ঠান নানা ঐতিহাসিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। নিজেও সৃষ্টি করেছে অনেক ইতিহাসের পটভূমি।
বিশ্বমঞ্চে বাংলা ভাষাকে উপযুক্ত মর্যাদায় উপস্থাপনে অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও মানবিক ও বুদ্ধিদীপ্ত সমাজ নির্মাণের পাটাতন তৈরিতে সাহসী ভূমিকা পালন করে যাবে বাংলা একাডেমি।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বাংলা একাডেমির ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বক্তৃতায় এসব কথা বলেন আলোচকরা। একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমি গত সাত দশকের অভিযাত্রায় ঐতিহাসিক নানা বাস্তবতার মুখোমুখি যেমন হয়েছে তেমনি নিজেও অনেক ইতিহাসের পটভূমি সৃষ্টি করেছে। এর প্রধান কাজ গবেষণা হলেও কালক্রমে বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক অভিপ্রায় প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বাংলা একাডেমি। আমরা মনে করি ভবিষ্যতে বাংলা একাডেমি মানবিক বুদ্ধিদীপ্ত সমাজ নির্মাণের পাটাতন তৈরিতে সাহসী ভূমিকা পালন করে যাবে।
’
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বক্তৃতা দেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। বাংলা একাডেমিকে বাংলা ভাষার স্বীকৃত ও প্রধান অভিভাবক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বমঞ্চে বাংলা ভাষাকে উপযুক্ত মর্যাদায় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির ভূমিকা অগ্রগণ্য। শুধু ভাষার ক্ষেত্রে নয়, সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও বাংলা একাডেমির গুরুত্ব সমান সত্য।’
বাংলা একাডেমিকে আরো জনসম্পৃক্ত ও বিশ্বমাপের গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ফয়জুল লতিফ বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় বাংলা একাডেমিকে প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার লাগসই ব্যবহারের বিষয়ে যেমন ভাবতে হবে তেমনি বাংলা ভাষার আদিরূপের মাধুর্য উত্তর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সাধু ভাষার একটি বার্ষিক সাময়িকপত্র প্রকাশের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।’
স্বাগত বক্তৃতায় একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘আজ থেকে সাত দশক আগে তদানীন্তন যুক্তফ্রন্ট সরকারের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন বাংলা একাডেমি।
মূলত তা ছিল পূর্ববাংলার জনগণের গভীর আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। নানা সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সত্তর বছরে বাংলা একাডেমির সঞ্চয়ও সামান্য নয়।’
বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক বলেন, ‘এটা সত্য যে, বাংলা একাডেমিতে বিভিন্ন সময় কায়েমি স্বার্থবাদী শক্তি ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাদের অপপ্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছে। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠান একটি জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণ ও উদঘাটনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত, তাকে চূড়ান্তভাবে পদানত করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।
এর আগে ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একাডেমির পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় একাডেমি প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা ও বাংলা একাডেমির পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি এবং এরপর বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।