নিউজ ডেস্ক:
৯টি দল নিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে বামপন্থিদের বৃহত্তর জোট। যুক্তফ্রন্টের আদলে গড়ে উঠছে নতুন এই জোট। যেখানে বাম গণতান্ত্রিক জোটভুক্ত ছয় দল ছাড়াও বাংলাদেশ জাসদ, ঐক্য ন্যাপ ও বাসদ (মাহবুব) যুক্ত হচ্ছে। তবে জোটের শরিক দলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নতুন জোটের নাম হিসেবে ‘নয়া যুক্তফ্রন্ট’ অথবা ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’-এর যে কোনো একটি চূড়ান্ত করা হবে।
এই অবস্থায় বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদের উদ্যোগে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় কনভেনশন। বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলগুলো ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি, গণসংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা ও ব্যক্তির অংশগ্রহণে এই কনভেনশন থেকেই বৃহত্তর জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
সেই সঙ্গে ঘোষণা দেওয়া হবে জুলাই জাতীয় সনদের অনুরূপ ‘জনতার সনদ’। আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।
জোটের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দেশের ক্রিয়াশীল বাম প্রগতিশীল দল, সংগঠন ও ব্যক্তিদের নিয়ে জোটটি গঠিত হচ্ছে। যার মূল লক্ষ্য হবে– একসঙ্গে আন্দোলন ও নির্বাচন। গণতন্ত্র ও জনজীবনের সংকট মোকাবিলার নানামুখী কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে নতুন জোটটি। পাশাপাশি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে তিনশ আসনে ভোটের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতিও চলছে তাদের। এরই মধ্যে জোটের সম্ভাব্য শরিক দলগুলো নিজ নিজ দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সব দলের প্রার্থী তালিকা থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।
উদ্যোক্তারা আরও জানান, এখন পর্যন্ত মোট ৯টি দল নতুন জোটে যুক্ত হওয়ার সম্মতি দিয়েছে। এর মধ্যে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ছয় শরিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ও বাসদ (মার্কসবাদী) রয়েছে। শরীফ নূরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাসদ এবং প্রয়াত বামপন্থি নেতা পংকজ ভট্টাচার্য প্রতিষ্ঠিত ঐক্য ন্যাপ নতুন জোটে যুক্ত হচ্ছে। এ ছাড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার শরিক চারটি দলের মধ্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মাহবুব) নতুন জোটে যুক্ত হতে সম্মতি দিয়েছে। এই জোটের অন্য শরিক দল গণমুক্তি ইউনিয়ন আজকের জাতীয় কনভেনশনে যোগ দেবে। অন্য দুই শরিক বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন ও নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চারও পরে এ জোটে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
উদ্যোক্তাদের দাবি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, দলিত ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একাধিক সংগঠন এবং গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক গণসংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠন জোট প্রচেষ্টায় যুক্ত থাকলেও রাজনৈতিক দল না হওয়ায় বৃহত্তর জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় রাখা হচ্ছে না। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব সংগঠন থেকেও একাধিক ব্যক্তির প্রার্থিতা থাকবে এ জোটের ব্যানারে। এ ছাড়া সোনার বাংলা পার্টিসহ আরও আট-দশটি ছোট দল আজকের জাতীয় কনভেনশনে যোগ দিলেও তাদের জোটসঙ্গী না করে সহযোগী শক্তি হিসেবে রাখা হবে।
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া সমকালকে বলেন, আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর নব্য ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বাম প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তির বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই বিবেচনা থেকেই নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার পর বৃহত্তর ঐক্য প্রশ্নে একমত হয়েছেন তারা।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নব্বইয়ের সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই তারা বৃহত্তর বাম গণতান্ত্রিক জোট গঠনের পথে অগ্রসর হয়েছেন, যা চলতি ধারার দুর্নীতি-লুণ্ঠনের রাজনীতির বিপরীতে শোষণমুক্ত সমতার সমাজ প্রতিষ্ঠায় জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, বামপন্থিদের এই বৃহত্তর জোট একসঙ্গে নির্বাচন ছাড়াও ‘জনতার সনদ’ নিয়ে জনজীবনের বিভিন্ন সংকট নিরসনের দাবিতে মাঠে থাকবে।