জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে গত ১৬ বছরে আমরা কী দেখেছি? এই সময়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে সব বিরোধী দল ও মত দমন করার কাজে। সেই অভিজ্ঞ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তখন গুম-খুনসহ সবকিছু অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করতে পেরেছে। এখন তারা কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না, সীমান্ত পার হতে বাধা দিতে পারে না, ৭২ ঘণ্টা পার হলেও একজন অপরাধীকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় না।
সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত সংগঠনটির মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারত যদি মনে করে ৫ আগস্টের পরেও তারা আগের মতো দেশের রাজনীতির ওপর হস্তক্ষেপ করবে, নির্বাচনে কারচুপি করবে, সেই ভাবনাটা ভুল। সেই ভাবনা আমরা ভুল প্রমাণ করব। ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক রাখতে হবে।
ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ আমরা এখানে একটি বার্তা দেওয়ার জন্য সমবেত হয়েছি। সেটা হলো, বাংলাদেশ ও জুলাই বিপ্লবীরা ঐক্যবদ্ধ। ওসমান হাদির শরীরে গুলি লাগার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লব আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ যতবার আক্রান্ত হয়, তরুণরা ততবার নেমে আসে।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে গত ১৬ বছরে আমরা কী দেখেছি? এই সময়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে সব বিরোধী দল ও মত দমন করার কাজে। সেই অভিজ্ঞ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তখন গুম-খুনসহ সবকিছু অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করতে পেরেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করে সেই দক্ষতা কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এখন তারা কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না, সীমান্ত পার হতে বাধা দিতে পারে না, ৭২ ঘণ্টা পার হলেও একজন অপরাধীকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় না। ফলে প্রশ্ন শুধু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ঘিরে নয়। এই খেলা কোথা থেকে চলছে— সেই ডিপ স্টেট নিয়ে, সেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিয়ে আপনাদেরকে কথা বলতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ চাই। আমরা চাই—বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হোক, গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত থাকুক। কিন্তু যারা জুলাই বিপ্লবকে টার্গেট করছে, যারা মিডিয়ায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে, আদালত অঙ্গনে মুজিববাদী রাজনীতি পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে—তাদের বিরুদ্ধে আমাদের গণপ্রতিরোধ চলবে।