স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য প্রচলিত ১ শতাংশ অগ্রিম ভোট-সংক্রান্ত আইন বাতিলসহ দুই দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদ।
গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজকুনিপাড়ায় সংগঠন কার্যালয়ে পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
এতে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িত সব হামলাকারী, মদদদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সরওয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী, ড. এ এম নুরুজ্জামান, ফজলুল হক, জেসমিন বেগম, মো. মোস্তাকিম, শিউলী বেগম, মো. হেলাল, রুমা আক্তার, আরব আলী, পারভীন আক্তার প্রমুখ। দেশের বিভিন্ন আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দুই দফা দাবিতে রয়েছে, প্রচলিত ১ শতাংশ অগ্রিম ভোট-সংক্রান্ত আইন বা নিয়ম বাতিল; জামানতের টাকা ৫০ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার করা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোটবদ্ধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে একই মার্কায় ভোট করার সুযোগ দেওয়া এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ঘোষিত নির্বাচনী তপশিল বাতিল ও সুষ্ঠু পরিবেশ ছাড়া নির্বাচন না করা।
বক্তারা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ জনতার ওপর একের পর এক হামলা প্রমাণ করে, দেশে নির্বাচনমুখী পরিবেশ ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও সহিংসতার মাধ্যমে জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।
সন্ত্রাস, সহিংসতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা এমনিতেই নিজেদের জীবন দেয়নি। তারা একটি স্বপ্ন বাস্তবায়ন দেখতে চেয়েছিল। আমরা ৫৪ বছরের পরিস্থিতির পরিবর্তন চাই। আর পেছনে ফিরে যেতে চাই না।