যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এইচ-১বি ওয়ার্ক ভিসা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সংশোধন করছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উচ্চ দক্ষতা ও বেশি বেতনের আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে আমেরিকান কর্মীদের মজুরি, কাজের পরিবেশ এবং চাকরির সুযোগ আরো ভালোভাবে সুরক্ষিত থাকে। নতুন নিয়মটি ভিসা প্রাপক নির্বাচনের জন্য প্রচলিত লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে এমন একটি প্রক্রিয়া চালু করেছে, যেখানে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র ম্যাথিউ ট্র্যাগেসার বলেন, এইচ-১বি নিবন্ধনের বিদ্যমান এলোমেলো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কিছু মার্কিন নিয়োগকর্তা অপব্যবহার করছিলেন। তারা আমেরিকান কর্মীদের তুলনায় কম মজুরিতে বিদেশি কর্মী আনার চেষ্টা করতেন। নতুন সিলেকশন পদ্ধতি অনুযায়ী এইচ-১বি কর্মসূচিকে আরো কার্যকর করবে এবং বেশি বেতন ও উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মী নিয়োগে নিয়োগকর্তাদের উৎসাহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করবে। এসব বিধিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা এইচ-১বি কর্মসূচিকে হালনাগাদ করতে থাকব, যাতে ব্যবসা উপকৃত হয়। কিন্তু আমেরিকান কর্মীদের ক্ষতি করে এমন অপব্যবহার না ঘটে।’
প্রতি বছর এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা সীমিত, ৬৫ হাজার সাধারণ কোটায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার।
সমালোচকদের মতে, এলোমেলো লটারি পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা কম দক্ষ ও কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে নির্বাচন পুল ভরিয়ে দিতেন, যা আমেরিকান কর্মশক্তির জন্য ক্ষতিকর ছিল। এসব উদ্বেগ মোকাবিলায় চূড়ান্ত নিয়মে ওজোনযুক্ত নির্বাচন চালু করা হচ্ছে, যাতে উচ্চ দক্ষতা ও বেশি বেতনের আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে, সব বেতনস্তরে নিয়োগকর্তাদের জন্য এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের সুযোগও বজায় থাকবে। এই নিয়ম কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং ২০২৭ অর্থবছরের এইচ-১বি ক্যাপ নিবন্ধন মৌসুমে প্রযোজ্য হবে।
নতুন নিয়মটি এইচ-১বি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা জোরদারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি প্রশাসনের অন্যান্য উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন প্রেসিডেনশিয়াল প্রোক্লেমেশন, যেখানে যোগ্যতার শর্ত হিসেবে প্রতি ভিসার জন্য নিয়োগকর্তাদের অতিরিক্ত ১ লাখ ডলার পরিশোধের বিধান রয়েছে।
ট্র্যাগেসার আরো বলেন, ‘এইচ-১বি সংস্কারে ট্রাম্প প্রশাসনের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে আমরা নিয়োগকর্তা ও আবেদনকারী, উভয়ের কাছ থেকেই আরো বেশি দায়বদ্ধতা চাইব, যাতে আমেরিকান কর্মীদের ক্ষতি না হয় এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়িত হয়।’