January 15, 2026, 4:12 pm
Title :
‘গুলি এবার ফস্কাবে না’, ট্রাম্পকে খুনের হুমকি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা চলছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ৮০ হাজার কোটি ডলার চায় ইউক্রেন, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী বললেন—‘টাকা গাছে ধরে না’ সংস্কারের সবচেয়ে বড় ম্যান্ডেট জুলাই গণঅভ্যুত্থান: আলী রীয়াজ নিরাপত্তা নাকি খনিজ সম্পদ, কেন গ্রিনল্যান্ড দ্বীপটি পেতে মরিয়া ট্রাম্প? গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকের বৈঠক নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কথা ভাবতে হবে : উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র? ক্ষমতায় গেলেও শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন হবে না গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে ভোটারদের অংশগ্রহণ জরুরি : সালমা খাতুন

শিক্ষক নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ‘বন্ধে’র আহ্বান রাকসু জিএস সালাহউদ্দিনের

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, December 30, 2025
  • 19 Time View

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রপ্রতিনিধিদের এক্তিয়ারবহির্ভূত তৎপরতা বন্ধ হোক’ শিরোনামে গত রোববার একটি বিবৃতি দেয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এই বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় সালাহউদ্দিন সোমবার এই আহ্বান জানান।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের ওই বিবৃতি সম্বলিত একটি ফটোকার্ড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হলে, সেখানে মন্তব্যে সালাহউদ্দিন লিখেন, ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি’। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মাসুদ রেজা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কে বন্ধ করবে? দুঃসাহস কার? শিক্ষক নেটওয়ার্কের জন্ম ২০২৪ সালের আগস্টের পরে নয়, নেটওয়ার্কের জন্ম ২০১৪ সালে। আওয়ামীরাও নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেনি। এই নেটওয়ার্ক তার নাম-পরিচয় লুকিয়ে নিজেদের কার্যক্রম কখনো পরিচালনা করেনি। জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে শিক্ষক নেটওয়ার্কের সক্রিয়তার কথা গোটা দেশবাসীর জানা আছে!’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক মাহাইর ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কোথাকার কোন ধইঞ্চা ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ নিয়ে কথা বললো, আর নেটওয়ার্কের লোকজন তার প্রতি উত্তরে নিজেদেরকে ডিফেন্ড করা শুরু করলো! আজব, এসবের আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে? শিক্ষক নেটওয়ার্কের লোকজনের কয়েকবছরের ত্যাগ ও তিতিক্ষার কাছে ওর মতো কয়েক শ’ ধইঞ্চাকে বহুবার বিক্রি করা যাবে! আপনারা কেন এই ধইঞ্চাকে আমলে নিচ্ছেন!’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল লিখেছেন, ‘ইতরদের স্মৃতিশক্তি খুবই দুর্বল হয়। এরা ভুলে গেছে ১ আগস্ট গ্রেপ্তার আতঙ্কে কর্মসূচি পালনের মুরদ ছিল না। সেদিন এই শিক্ষক নেটওয়ার্কের মৌন মিছিলকেই রাজশাহীর কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সাদা পোশাকের পুলিশ শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের জন্য ধস্তাধস্তি করলে, এই শিক্ষকরাই ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। সেই সাহসিকতার মোমেন্টাম রাজশাহীসহ সারাদেশের আন্দোলনকে আবার চাঙ্গা করে। এদের না আছে শ্রদ্ধা, পরমতসহিষ্ণুতা; না আছে সম্মানবোধ। কতগুলো আধিপত্যকামী, ফ্যাসিস্ট জুলাইয়ের হর্তাকর্তা সেজে বসে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের নামে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের জন্য সালাউদ্দিন আম্মারকে ক্ষমা চাইতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘তারা (শিক্ষক নেটওয়ার্ক) আমার কাজকে যদি অতৎপরতা হিসেবে দেখে তাহলে আমিও তাদের বিবৃতি সন্দেহের চোখে দেখি। তারা আমাকে একটি আহ্বান জানিয়েছে, আমিও তাদের আহ্বান জানিয়েছি। তারা এটাকে স্বাধীনতা হিসেবে দেখলে আমিও আমার স্বাধীনতা প্রকাশ করছি।’

গত রোববার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিদের এক্তিয়ারবহির্ভূত কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সংগঠনটি এ ধরনের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানায়।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে বলা হয়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে নানা ধরনের ‘মব’ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ডিনদের পদত্যাগ করানো, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হয়রানি তৎপরতা চলমান আছে। রাকসুর জিএস প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি না চেয়ে বরং ছয়জন ডিনের পদত্যাগ দাবি করেন। কেবল তাই নয়, নিজেই যেন ‘প্রশাসন’ হয়ে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় ডিনদের বিরুদ্ধে হুমকি দেন, এমনকি এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে নিজে পদত্যাগপত্র লিখে এনে বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে ডিনদের খুঁজতে থাকেন, সম্ভবত লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে। মোট ১২ জন ডিনের প্রত্যেকেই আওয়ামী শাসনামলে নির্বাচিত হলেও, বাকি ছয়জন হয়ত রাকসু জিএসের বিবেচনায় ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় উত্তীর্ণ’, ফলে তাদের পদত্যাগের দাবি ওঠেনি, তাদের নিয়ে অবমাননাকর কিছু বলাও হয়নি। এই উদ্ভূত অসম্মানজনক পরিস্থিতিতে ‘প্রগতিশীল শিক্ষক’ হিসেবে পরিচিত ছয়জন ডিন দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্যাম্পাসে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করতে রাকসুর জিএস ভব্যতার সকল সীমা ছাড়িয়ে বারবার ঘোষণা করতে থাকেন, লীগপন্থি শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে ঢুকলে ‘কলার ধরে টেনে এনে প্রশাসন ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে’। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যা করছেন, তা রাকসুর এক্তিয়ারবহির্ভূত এবং তাদের আচরণও ‘আগ্রাসী’ ও ‘সন্ত্রাসীদের’ মতো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা এর জবাবদিহি প্রত্যাশা করি। কেননা, রাকসুর নেতাদের এরকম আচরণ কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেনি, এটা সরাসরি বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার ওপরে হামলা। এর ‘স্পাইরাল ইফেক্ট’ পড়েছে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com