প্রয়াত লেখক শান্তনু কায়সারের জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারকদের রায়ে তিনটি ভিন্ন শাখার পাণ্ডুলিপিকে এই পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে।
চূড়ান্তভাবে মনোনীতদের তালিকায় স্থান পেয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৪৭তম ব্যাচের ‘নাটক ও নাট্যতত্ত্ব’ বিভাগের শিক্ষার্থী শরণ এহসান এবং ৪৯তম ব্যাচের ‘তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি’ বিভাগের শিক্ষার্থী হেমায়েত উল্লাহ ইমন।
তিনটি ভিন্ন শাখায় পুরস্কারের জন্য কবিতায় ‘ফেনাফুল’-এর জন্য হেমায়েত উল্লাহ ইমন, কথাসাহিত্যে ‘গালিবের মুশায়েরায়’-এর জন্য জুবায়ের রশীদ এবং নাটকে ‘পুরনামা’-এর জন্য শরণ এহসান পুরস্কার পাচ্ছেন।
পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীরা প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ পাবেন। নির্বাচিত এই সেরা তিনটি পাণ্ডুলিপি আগামী একুশে বইমেলা ২০২৬-এ ‘ঐতিহ্য’ প্রকাশনী থেকে বই আকারে প্রকাশিত হবে।
চূড়ান্তভাবে মনোনীত জাবি শিক্ষার্থী হেমায়েত উল্লাহ ইমন কালের কণ্ঠকে বলেন, এটা আমার জীবনে লেখা প্রথম পাণ্ডুলিপি এবং এটাতে পুরস্কার পাওয়া। এই অনুভূতিটা আসলেই অন্যরকম।
আমার প্রথম কোনো লেখা বই প্রকাশ এবং এটাতে এই রকম একটা বড় সম্মাননা পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার। সম্মাননা পাওয়ার পর আমার লেখার প্রতি আরো দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে। ভবিষ্যতে এমন বই আরো লেখার জন্য এটি আমার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছে, আমি নিজে যেহেতু সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি, তাই সাহিত্যের প্রতি আরো ভালোলাগা বেড়ে গেছে।
আগে সবসময় নিজে পড়ে গেছি, কিন্তু এখন নিজের লেখা অন্যকে পড়ানোর একটা জায়গা তৈরি হয়েছে।
‘পুরনামা’ নাটকের জন্য পুরস্কার মনোনীত জাবি শিক্ষার্থী শরণ এহসান বলেন, বাংলা নাটকের দীর্ঘদিনের যাত্রাপথে মস্ত মহিরূহদের মাঝে আমার এ অর্জন অতি ক্ষুদ্র। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে এমন স্বীকৃতি যারপরনাই প্রেরণা জোগাবে। এই বঙ্গভূমির পূর্বজগণের সহস্রকালের ইতিহাস বুকে টেনে নিয়ে হেঁটে যেতে চাই৷ এই বদ্বীপের বুকচিরে বসবাসরত বাঙালিসহ সকল জাতিসত্তার অন্ত্যজ গাঢ়তর আবেগ আমার যাত্রাপথের সঙ্গী হোক, এই পরম চাওয়া। দেশের মা, মাটি ও মানুষের জন্য আমৃত্যু আমার কলম সচেষ্ট থাকবে।
ঐতিহ্য প্রকাশনী, বিচারকমণ্ডলী ও পুরস্কারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
পুরস্কার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবছর ৩০ ডিসেম্বর শান্তনু কায়সারের জন্মদিনে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। আগামী ১১ এপ্রিল লেখকের নবম প্রয়াণবার্ষিকীতে বিজয়ীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
এবারের আসরে গত ২৩ আগস্ট থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত জমা পড়া পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে বিচারকেরা সেরা কাজগুলো নির্বাচন করেছেন। প্রকাশনা সংস্থা ‘ঐতিহ্য’ ও ‘শান্তনু কায়সার স্মৃতি পাঠাগার ও চর্চা কেন্দ্র’ যৌথভাবে এই পুরস্কার প্রদান করে থাকে।