আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি বাড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ডিভাইস রয়েছে। যা বিক্ষোভের আড়ালে সহিংস কার্যক্রম চালানোর উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা দেন, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে এমন কিছু অডিও রেকর্ড রয়েছে। যেখানে বিদেশ থেকে বিক্ষোভকারীদের চলমান এই সহিংসতাকে আরও উসকে দিতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে শোনা যায়।
ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, তারা বিদেশি এজেন্ট পাঠিয়ে ইরানে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথও খোলা থাকতে পারে।
জানা গেছে, বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ইরান। ইতিমধ্যে দেশটি চলমান গণআন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক বিক্ষোভকারীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইসআরএনএ) দাবি করেছে, সোমবার রাত পর্যন্ত তারা ৬৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছে। এর মধ্যে ৫০৫ জন বিক্ষোভকারী, ১১৩ জন সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া সাধারণ ব্যক্তি রয়েছেন সাতজন।
সংস্থাটি আরও জানায়, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৭২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।