মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে উপজেলার উত্তর চর হাসান গ্রামের সৈয়দ মুন্সি বাড়ি মাদরাসায় এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে চরজব্বর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফর রহমান ও সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুল হাসান (৩৫) পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা। তিনি সৈয়দ মুন্সি বাড়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে সে নোয়াখালী সদর উপজেলার নুরু পাটোয়ারীহাট মাদরাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদরাসায় পড়াশোনার সময় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৭ জানুয়ারি অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
চরজব্বর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু কাউছার গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্ত শিক্ষকের মাদরাসায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মাদরাসাটি বন্ধ ছিলো। এরই মধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ করে।
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান গণমাধ্যমকে বলেন, মাদরাসার শিক্ষক ছাত্রী নিয়ে পালানো ও প্রতিষ্ঠানে তালা লাগানোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে কেউ অবগত করেনি। তবে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি একটি অপরাধমূলক ঘটনা। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চরজব্বর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। মাদরাসায় কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সুধারাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ছাত্রী তার পরিবারের হেফাজতে রয়েছে।