March 3, 2026, 1:10 am
Title :
ঝাঁকে ঝাঁকে কামিকাজে: ইরানের সস্তা অস্ত্র বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের বাস্তবতা ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানে বড় হামলা আসছে, প্রয়োজনে স্থলসেনা মোতায়েন : ট্রাম্প মার্কিন দূতাবাসসহ ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে আইআরজিসির হামলা, কোথায় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নগরীতে নারীর গলায় চাকু ধরে ছিনতাই ইরানে ইসরায়েলের হামলায় চীনা নাগরিক নিহত আহত জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা ও পুনর্বাসনে সরকার আন্তরিক ৩ বিমান বিধ্বস্তের কথা স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র

দলীয় শুদ্ধিকরণে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন, অন্যথায় দেশবাসী হতাশ হবে: প্রধানমন্ত্রীকে টিআইবি

Reporter Name
  • Update Time : Friday, February 20, 2026
  • 18 Time View

নিউজ ডেস্ক:
সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন হিসেবে উল্লেখ করে পরিবহণমন্ত্রী একটি ঘোরতর অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার যে অজুহাত খুঁজেছেন। এতে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ জাতীয় দু্র্নীতিসহায়ক অপচেষ্টাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের নিজ দলের শুদ্ধিকরণে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। বলছে, দলীয় শুদ্ধিকরণে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন, অন্যথায় দেশবাসী হতাশ হবে।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘পরিবহণমন্ত্রী চাঁদাবাজির যে সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন, তা তিনিসহ মন্ত্রিপরিষদের প্রায় প্রতিটি সদস্য দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতিবিরোধী যে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার ও সরকার প্রধানের জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণ, যেখানে কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত না হতেই মন্ত্রীর পরিবহণ খাতের ক্যান্সার চাঁদাবাজির সুরক্ষাপ্রয়াসী এ মন্তব্য খুবই হতাশাজনক। এর মাধ্যমে পরিবহণমন্ত্রী তার নিজ দলের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার ও সরকার প্রধানের দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অবস্থানকে বিব্রতকরভাবে অবমূল্যায়ন করেছেন।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তিনি যেভাবে সড়ক ও পরিবহণ খাতের বিদ্যমান চাঁদা সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যাসহ পক্ষাবলম্বন ও সমর্থন করেছেন, তাতে স্পষ্টতই তিনি চাঁদাবাজির মতো একটি অনৈতিক ও যোগসাজশের দুর্নীতিকে বৈধতা প্রদানের চেষ্টা করছেন। যার সরাসরি ভুক্তভোগী এদেশের পরিবহণ খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ, যাদের এ অবৈধতার বোঝা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বইতে হয়। শুধু তাই নয়, মালিক ও শ্রমিক কল্যাণকে যেভাবে এখানে বৈধতার অজুহাত বা ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, তা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং এ খাতে বিরাজমান দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যপূর্ণ ব্যবস্থাকে সুরক্ষাসহ চলমান রাখার অপতৎপরতার শামিল।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার নামে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হলে বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পাসপোর্ট, ভূমি, প্রশাসন ইত্যাদি সেবার পাশাপাশি সরকারি ক্রয়, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যাংক, বিদ্যুতসহ অন্য সবখাতেও একই ত্বত্ত্বের ধারাবাহিক প্রয়োগ ও প্রসার কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে?- সেই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসবে। নবগঠিত সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারসহ বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতিতে বারংবার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা যদি ফাঁকা বুলি কিংবা শুধু জনতুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে না হয়ে থাকে, তাহলে অনতিবিলম্বে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পরিবহণমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কর্তৃত্ববাদ পতনের পর দেশব্যাপী যেভাবে বহুমাত্রিক চাঁদাবাজি, দলবাজি, দখলবাজির হাতবদলের মহোৎসব হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মন্ত্রীর এ অবস্থান কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। একইসঙ্গে, বর্তমান সরকারের ভুলে যাবার কথা নয় যে, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই ত্বত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে পতিত কর্তৃত্বপরায়ণ সরকারের সড়কমন্ত্রীও সড়কে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিতে উদ্যোগ নিয়েছিলো। আত্মঘাতী বিবেচনায় টিআইবি যার জোরালো প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছিলো। নবগঠিত সরকারও একইপথে হাঁটছে শঙ্কায় টিআইবি হতাশ।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘আপনার প্রতি ইতোমধ্যে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার ওপর পরিপূর্ণ আস্থা নিশ্চিত করার জন্যহ, আপনার পরিকল্পনায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের একাংশের আত্মঘাতী পথ রোধকল্পে দলীয় শুদ্ধিকরণ ও সংস্কারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন। অন্যতথায় দেশবাসী হতাশ হবে। এর ফলে বিকল্পের খোলসে এমন শক্তি লাভবান হবে যাদের ভাবাদর্শ, দীক্ষা ও অভীষ্ট বায়ান্ন থেকে একাত্তর হয়ে চব্বিশ পর্যন্ত রক্তের বিনিময়ে লালিত বাংলাদেশের মৌলিক চেতনা ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে ভয়াবহ মাত্রায় সাংঘর্ষিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সঠিক প্রাধান্য নির্ধারণের এখনই সময়।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com