আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) হামলা চালিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আমিরাতকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষ আবুধাবির একটি আবাসিক এলাকায় পড়ে। এতে কিছু বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এশীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, বেসামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।
এ ধরনের হামলাকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
আমিরাত আরও বলেছে, এ হামলা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পরিস্থিতির জবাবে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাষ্ট্রটির রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যেকোনো হামলা মোকাবিলায় দেশটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ইরানে হামলার ঘটনায় তেহরান কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনেও হামলা চালিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশগুলো তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইরানের হামলায় কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন চালু করা হয়। কাতার কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে বাসিন্দাদের ঘর কিংবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার এবং সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে।
বাহরাইনে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।