যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী। এ পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন—যাদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, রাশিয়া ও চীনের উদ্দেশে তার কোনো বার্তা নেই। তিনি মন্তব্য করেন, ‘তারা এখানে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। আমাদের বিরোধও তাদের সঙ্গে নয়।’
হেগসেথ জানান, ইরানের ‘পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ বন্ধ করাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা কেবল শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই আরও কয়েক দফা হামলা চালানো হবে। এ অভিযানে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ‘গ্র্যাভিটি বোমা’র বড় মজুত ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল রাহিম মুসাভি এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে যৌথ হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং কয়েকটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
সূত্র: আল জাজিরা