আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার জন্য বিভিন্ন দেশকে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে অস্থির হয়ে পড়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে আসে। ওয়াশিংটন থেকে বৃহস্পতিবার জারি করা এক লাইসেন্স অনুযায়ী, ১২ মার্চ পর্যন্ত জাহাজে তোলা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ ও বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই অনুমতি ওয়াশিংটনের সময় অনুযায়ী ১১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
গত বুধবার ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয়, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দ্রুত বাড়তে থাকা দাম ঠেকাতে তারা কৌশলগত মজুত থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়বে। এই উদ্যোগটি ছিল ৩২টি দেশের জোট আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মোট ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। আইইএ বৃহস্পতিবারই জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকট তৈরি করছে।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে। যুদ্ধের চার দিনের মাথায় জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এরপর সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবশেষ উদ্যোগ হিসেবে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল ট্রাম্প প্রশাসন।