আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বাদ দিয়ে একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুনভাবে বিন্যাস করছে বলে মনে করছে ইরান। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘এখন সময় এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই নেওয়ার এবং বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর।’
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা একটি ‘নতুন পর্যায়’ তৈরি করেছে, যা মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জোলফাঘারি আরও বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ঐক্য জরুরি।’
তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ধর্মীয় ও আঞ্চলিক বন্ধনের ভিত্তিতে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।
খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরান এখন কৌশলগতভাবে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
প্রস্তাবিত এই জোট বাস্তবে গঠিত হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। তবুও বিশ্লেষকদের মতে, এই আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূরাজনৈতিক বিভাজন এবং প্রতিযোগিতামূলক নিরাপত্তা কাঠামোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।