July 3, 2026, 10:04 am
Title :
কাবা শরীফ তাওয়াফের ইতিহাস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে স্পেন জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ পাকিস্তানপন্থীদের মন্ত্রী-এমপি করেছে বিএনপি, ক্ষমা চাইব কেন: গোলাম পরওয়ার রাখাইনে সংঘাত, টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির কড়াকড়ি কেপ ভার্দে ম্যাচে কীর্তির সামনে স্কালোনি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও ডেল্টা অর্থনীতির জন্য ব্লু কার্বন ফাইন্যান্স জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক ঢাবি শিক্ষকদের শাস্তি দাবিতে সাদা দলের আলটিমেটাম ফুয়াদকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান ছাত্রদলের মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নেবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ

ফেরিতে দাঁড়িয়ে নুরুজ্জামান দেখলেন, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাসটি নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, March 26, 2026
  • 49 Time View

সৌহার্দ্য পরিবহনে দুপুর আড়াইটায় ঢাকার উদ্দেশ্যে কুমারখালী থেকে রওনা দেন ঝিনাইদহের শৈলকুপার খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামান। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ও চার বছর ও ৮ মাসের দুটি শিশুও ছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে নুরুজ্জামান চার বছরের পুত্র সন্তান নিয়ে বাস থেকে নেমে ফেরিতে ওঠেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন, তার সামনে দিয়ে বাসটি স্ত্রী সন্তান নিয়ে নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। এ দৃশ্যে দেখে একটু দৌড়ে আবার থেমে যান নুরুজ্জামান। মুহূর্তে তছনছ হয়ে যায় ঈদের আনন্দ।

ফোনে কথার সূত্র ধরে ঘটনার এমন বর্ণনা দেন নুরুজ্জামানের প্রতিবেশী ইলিয়াস হোসেন। নুরুজ্জামান খন্দকবাড়িয়া গ্রামের কামরুজ্জামানের ছেলে। ইলিয়াস হোসেন জানান, তারা বাড়িতে স্থায়ী না। কামরুজ্জামান স্ত্রী আয়েশাসহ ঢাকাতে বসবাস করে। অন্য দুই ভাই প্রবাসে। তবে বাড়ির অন্য সদস্যরা সবাই ঘটনাটি জানার সাথে সাথে দৌলদিয়া রওনা হয়েছেন বলে জানান।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে তলিয়ে যায়। বাসটিতে ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার পর উদ্ধার কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় পড়া বাসটি সৌহার্দ্য পরিবহনের। সেটি কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসে। এতে ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন সৌহার্দ্য পরিবহনের রাজবাড়ীর কাউন্টারের ম্যানেজার সিরাজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাসটির চালক ও হেলপারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।’

এ পর্যন্ত উদ্ধার সাতজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ অনেকে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন।

দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়া ৩নং ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় পদ্মায় পড়ে যায়। বাসটি যেখানে পড়ে সেখানে নদীর গভীরতা অনেক বেশি। ফেরিঘাটের কাছে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত ডুবন্ত বাসটি উদ্ধার করা যায়নি।

ফোনে নুরুজ্জামান বলেন, ‘বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে ঢাকা যাওয়া-আসা করি। ছুটি এসে সৌহার্দ্য পরিবহনে করে ঢাকা যাচ্ছিলাম। পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ি সিরিয়ালে ছিল। তখন আমি আর বড় মেয়ে নাওয়ারা বাস থেকে নেমে যায়। আর স্ত্রী আয়েশা ও ছোট মেয়ে আরশান বাসেই ছিল। পরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত স্ত্রী আর ছোট মেয়ের সন্ধান পাইনি।’
সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালীর বাস কাউন্টার মাস্টার তন্বয় আহমেদ বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে ৬টি সিটে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় বাসটি। এরপর খোকসা থেকে ৭ জন, মাছপাড়ার ৪ জন, পাংশার ১৫ জন, চালক-সহকারীসহ মোট ৫০ জন ছিলেন।

তার ভাষ্য, ৪০ সিটের বাসে মোট ৫০ জন ছিলেন। ব্রেক ফেল করে গাড়িটি নদীতে ডুবে গেছে। যাত্রীদের কারো পরিচয় জানা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাহী ফারজানা বলেন, কুমারখালী থেকে শিশুসহ ৮ যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে গিয়েছিল। তাদের বাড়ি খোকসা ও শৈলকূপা উপজেলায়। ৮ জনের মধ্যে তিনজন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com