July 2, 2026, 3:58 am

কালবৈশাখীর তাণ্ডব টেকনাফে— উপড়ে গেছে গাছ, কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, April 29, 2026
  • 30 Time View
কক্সবাজারের টেকনাফে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে শুরু হওয়া এ ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর, পানের বরজ, সুপারি বাগানে ক্ষতির পাশাপাশি উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। বৈদ্যুতিক তারে গাছের ডাল ভেঙে পুরো উপজেলায় বিদ্যুতের সুইচ অফ রয়েছে।

উপজেলার টেকনাফ পৌরসভা, সদর, সাবরাং, বাহারছড়া, হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল।

বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে লোকালয়ের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এ ছাড়া আকস্মিক এ বজ্রঝড়ে কোথাও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। 

স্থানীয় জেলেরা জানান, সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকায় নৌকাগুলো সব কূলে ছিল। এতেই বৈশাখী ঝড়ে জেলে পল্লীতে আর দুশ্চিন্তা বাড়েনি।

তবে কূলে থাকা জেলেদের শতাধিক নৌকা প্রবল বাতাসে হেলে পড়ে এবং অন্য নৌকার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

সাবরাং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সেলিম সিআইপি জানান, বিকালের দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া বৈশাখী ঝড়ে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বেশিরভাগ বসতবাড়ির টিনের ও বাঁশের তৈরি ঘেরা বেড়া ভেঙেছে। বিভিন্ন এলাকায় ছোটবড় অনেক গাছ গোড়া থেকে উপড়ে পড়েছে।

এ ছাড়া উপকূলে নোঙর করা এবং তীরে নিরাপদে তুলে রাখা মাছ ধরার নৌকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

টেকনাফ জুড়ে কালবৈশাখী ঝড়ে লবণ মাঠ নষ্ট হয়েছে বৃষ্টিতে। তবে চাষীদের আগাম প্রস্তুতি থাকায় উৎপাদিত লবণ তারা আগেই নিরাপদ স্থানে মজুদ করতে পেরেছেন। এতে পরবর্তী লবণ উৎপাদনে নামতে সপ্তাহ দুয়েক লাগলেও চাষীদের ক্ষতি খুব বেশি নয় বলে জানিয়েছেন একাধিক কৃষক।

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা লবণ চাষি জাহেদ উল্লাহ বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হতেই আমরা আমাদের মাঠের উৎপাদিত লবণ মজুদ করতে সুযোগ পেয়েছি।

আমাদের আগে থেকেই ধারণা ছিল কালবৈশাখী আঘাত হানতে পারে। প্রস্তুতি নিয়ে উৎপাদিত লবণ নিরাপদে মজুদ না করতে পারলে মাঠে ভেসে যেত কয়েক কোটি টাকার লবণ। 

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মিঠাপানির ছড়া এলাকার বাসিন্দা নূর হোসাইন বলেন, আমার এক একরের সুপারি বাগানের পাশাপাশি দুটি পানের বরজ ছিল। কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বেশ কয়েকটি সুপারি গাছ ভেঙে পড়েছে এবং পানের বরজে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বুধবার কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে সন্ধ্যা হওয়ায় সরেজমিনে সেসব কৃষি ক্ষেত পরিদর্শনের সুযোগ হয়নি। খুব শিগগিরই প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।

এদিকে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পরীক্ষার আগের রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পরীক্ষাতে পড়বে বলে জানান তারা।

টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এসএসসি পরীক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, কালবৈশাখী ঝড় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সেটি মানতে হচ্ছে কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ যদি অস্থায়ীভাবে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক লাইন নিরবচ্ছিন্ন করতে চেষ্টা করতেন তবে সন্ধ্যার পরই বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব হতো।

এ বিষয়ে কথা বলতে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম কে একাধিক বার ফোন করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একাধিক মাধ্যমে জানিয়েছেন বুধবার রাতে বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব হবে না।

টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য আসছে। কোথাও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com