স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীকে নিয়ে নানা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজধানী উত্তরার উত্তরখান বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
গতকাল সন্ধায় উত্তরখান মাজার রোড এলাকার বিএনপি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা রশিদ ভূইয়া বলেন, কিছুদিন আগে সাকিব নামে এক গণমাধ্যমকর্মীকে মারধর করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে মানবিক কারনে তারা তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে এবং উত্তরখান থানা পুলিশে খবর দেয়। পরে ঘটনা স্থলে পুলিশ এসে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতে একটি মিমাংশা করে দেয়। আর এই মিমাংশায় তাদের জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। এতে রবিন ও গং মিলে উক্ত গণমাধ্যমকর্মী ও বিএনপি নেতৃবৃন্দদের নিয়ে মিথ্যা ও নানা অপপ্রচার চালাতে থাকে। এমনকি উল্টো তাদেরকেই চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে গতকাল একটি পত্রিকায় সংবাদ প্রচার করে পারিবারিক ও রাজনৈতিক ভাবে সম্মানহানী করে। মুলত তার প্রতিবাদেই আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।
এসময় বক্তারা আরও বলেন, যদি কেউ প্রমান করতে পারে আমরা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত তাহলে সেচ্ছায় আমরা আমাদের দলিয় পদ থেকে অব্যাহতি নেব। মাদক ও সন্ত্রাসের সাথে জড়িত ওই রবিন ও তার সঙ্গী সাথীরা যাতে আমাদেরকে কোণঠাসা করে চাঁদাবাজি ও সকল প্রকার অপকর্ম নির্ভিগ্নে চালিয়ে যেতে পারে সেজন্যই তারা এইসব অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
এবিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাকিবুল হাসান বলেন, সম্প্রতি আমি তথ্য পাই, দীর্ঘদিন যাবত রবিন ও সিন্ডিকেট দাপটের সাথে উত্তরখান মাজার মোড়ে অবস্থিত ‘খান সুপার মার্কেট’ ও তার আশপাশে ফুটপাতে চাঁদাবাজি করে আসছে। কাজেই আমি ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে যাই। একপর্যায়ে রবিন ও তার সহযোগীরা খবর পেয়ে আমাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন আমাকে বাঁচাতে আসে এবং থানায় খবর দেয়। পরে আমাদের উভয় পক্ষকে থানায় নিয়ে যায় এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশের সহায়তায় একটি আপোষ মিমাংশার তথা আইনের উপর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানেই থেমে যাই। কিন্তু হঠাৎ গতকাল একটি অনলাইন নিউজে দেখতে পাই আমি নাকি ওই মার্কেট থেকে গত ১৫ বছর যাবত চাঁদাবাজি করছও। অথচ যেখানে মার্কেরে বয়সী হয়ছে ৮/১০ বছর। এরকম আরও নানা মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যদিও কিছুক্ষণ পর সেই পেইজ থেকে নিউজা ডিটিট করে দিয়েছে। তবুও সামাজিক ভাবে আমাদেরকে এভাবে হেয় করায় আমি এর বিচার চাই।
রবিন ও তার সিন্ডিকেটের চালানো চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মী সাকিব, ব্যবসায়ী এবং সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ গ্রহণ করা হয়েছে। এই চাঁদাবাজ চক্রকে আড়াল এবং নিজেদের অপরাধ ঢাকতে গণমাধ্যমকর্মী এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক রশিদ ভূঁইয়াসহ অন্যান্যদের নিয়ে যে ‘ষড়যন্ত্র’ ও ‘মিথ্যা সংবাদ’ চালাচ্ছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য : উত্তরখান মাজার মোড় ও খান সুপার মার্কেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রবিন ও তার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভাসমান দোকানদার ও পথচারীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিল। সেই সম্পর্কে ক্রাইম পেট্রোল বিডি মাল্টিমিডিয়ায় সংবাদ প্রচার হয় ।
সেই সাংবাদের জেরে চাদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয় । তাই চাদাবাজ রবিনের বাবা গণমাধ্যম কর্মী সাকিবুল হাসান এবং রাজনৈতিক নেতা রশিদ ভুইয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা চালায় কিন্তু নিজেরা চাদাবাজ হয়ে তাদের দোষ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এহেন প্রপাগাণ্ডা চালাচ্ছেন চাদাবাজরা ।
এই জুলুম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ করেন। স্থানীয়দের পক্ষে আইনি ও সামাজিক প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেওয়া সহ সত্য ঘটনা গণমাধ্যমে তুলে ধরায় রবিন সিন্ডিকেট সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে গণমাধ্যমকর্মী সাকিব এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি রশিদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রবিন সিন্ডিকেট প্রতি মাসে দোকান প্রতি নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা দাবি করে। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের দোকান ভাঙচুর ও এলাকা থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি দেয়।
গণমাধ্যমকর্মী সাকিব একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের আকুতি ও চাঁদাবাজির বাস্তব চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। রবিন সিন্ডিকেট নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এখন এই সৎ সাংবাদিককে ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বানানোর সস্তা অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এবিষয়ে স্থানীয় নেতা রশিদ ভূঁইয়া সবসময় মাজার মোড়ের সাধারণ ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রবিনদের অবৈধ দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকেও এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় জড়ানো হচ্ছে।
রবিন ও তার সিন্ডিকেট মূলত সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং জোরপূর্বক বা শিখিয়ে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে ভিডিও রেকর্ড করে নিজেদের সাধু প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, উত্তরখান থানা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দাবী রবিন ও তার সিন্ডিকেটের এই ভুয়া বায়নাপত্রের আড়ালে থাকা অবৈধ দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজির অডিও-ভিডিওর সত্যতা এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর করা জুলুমের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। সেই সাথে, সত্য প্রকাশের জেরে সাংবাদিক সাকিব ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে হওয়া এই নোংরা অপপ্রচারের পেছনে থাকা মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।


















