July 2, 2026, 4:01 am

চট্টগ্রাম বন্দরে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা, ইজারা ইস্যুতে সরকারের মধ্যেই দুটি পক্ষ হয়ে গেছে

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, June 7, 2026
  • 37 Time View

শ্রমিক সংগঠন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলের আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রতিবাদের মুখে চট্টগ্রাম বন্দরের সর্ববৃহৎ ও লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার এ চুক্তি না করেই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দরকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটির ইজারা প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলে, তা বাতিল বা শেষ করার নির্দেশনা দেয়। এতে আন্দোলনকারীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু বিকালে আরেক চিঠিতে একই মন্ত্রণালয় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা তথা দরকষাকষির আলোচনা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।

একই দিন সকাল ও বিকালে মন্ত্রণালয়ের দুই চিঠি নতুন করে রহস্যের জন্ম দিয়েছে। বন্দরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আন্দোলনকারীরা বলছেন, দেখে-শুনে মনে হচ্ছে এনসিটি ইজারা ইস্যুতে সরকারের মধ্যেই দুটি পক্ষ হয়ে গেছে। একপক্ষ বিদেশিকে দিতে চাচ্ছে; আরেকপক্ষ চাইছে দেশীয় অপারেটর দিয়ে পরিচালনা করতে। এখন যে পক্ষ শক্তিশালী সেই পক্ষই দ্বিতীয় চিঠি ইস্যুর নেপথ্যে কাজ করছে বলে তারা সন্দেহ করছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপি) কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে প্রথম চিঠি দিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল বা শেষ করার কথা বলা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় ইজারা দর নিয়ে নির্দেশনা চাইলে দ্বিতীয় চিঠিতে তা (দরকষাকষি) অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ ৭ সদস্যের মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে তা অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েও নৌ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এনসিটি ইজারার সর্বশেষ পরিস্থিতি ও মন্ত্রণালয়ের চিঠির বিষয়ে জানার জন্য বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসির উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়ার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত নৌ মন্ত্রণালয়ের দুটি চিঠি পেয়ে তারা বিস্মিত হয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার যেখানে আন্দোলনের মুখে পিছু হটেছে, সেখান বর্তমান নির্বাচিত সরকার কার জন্য স্রোতে গা ভাসাতে চাচ্ছে বুঝতে পারছি না। এনসিটি কোনো ট্রানজিট পোর্ট বা টার্মিনাল নয়। ব্যবসায়ীরাও বলেননি যে এনসিটি তাদের সেবা দিতে পারছে না। এনসিটির আয়ও রেকর্ড পরিমাণ। এনসিটির সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন জড়িত। বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ৪৪-৪৫ শতাংশ এই এনসিটিতেই হয়। দেশীয় প্রতিষ্ঠান এনসিটি চালানোর দক্ষতার পরিচয় ইতোমধ্যে দিয়েছে। তাই এটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।’ এই ইস্যুতে তাদের অবস্থান আগের মতোই আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আন্দোলন করতে গিয়ে এই শ্রমিক দল নেতা পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, এনসিটিতে নতুন করে কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। দেশীয় অপারেটররা এটি দক্ষতার সঙ্গেই পরিচালনা করে আসছিল। বিশেষ করে সাইফপাওয়ারটেক দীর্ঘদিন এই টার্মিনাল পরিচালনা করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাদের কাছ থেকে এই প্রতিষ্ঠান অনেকটা কেড়ে নেওয়া হয়। সরকারি সংস্থা ড্রাইডক ২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনা করছে।

পরিচালন ক্ষমতা হারালেও দেখা গেছে, সাইফপাওয়ারটেকের কর্মীদেরকেই কাজে লাগাচ্ছে ড্রাইডক। এখনো এই টার্মিনালে রেকর্ড হ্যান্ডলিং হচ্ছে। তাছাড়া ডিপি ওয়ার্ল্ড এনসিটি হ্যান্ডলিং করে সরকারকে যে লাভ দেবে বলেছে, দেশীয় একাধিক প্রতিষ্ঠান তার চেয়েও বেশি লাভ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এরপরও কেন নতুন করে ডিপি ওয়ার্ল্ডকেই এনসিটি দেওয়ার জন্য নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা বোধগম্য নয়। এটি যদি হয় তবে তারা নতুন করে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com