July 1, 2026, 9:38 am
Title :
ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপারের মানুষের ছাত্রদলের ১৭ বছরের আন্দোলনের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই অভ্যুত্থানে: রিজভী বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা স্বাধীনতার বিরোধিতার দায়ে বিএনপির ক্ষমা চাওয়া উচিত: গোলাম পরওয়ার বিসিবির বর্তমান কমিটিতে ক্রিকেট গতিশীল হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র বিতরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত আগামী ৫ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর বাজেট বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হবে ব্যাংকিং খাত: জামায়াত এমপি জাতীয় সংসদে আইনজীবীর পোশাকে রুমিন ফারহানা, সংসদে আলোচনা মুক্তিযুদ্ধ থেকে জুলাই অভ্যুত্থানকে আলাদা করার সুযোগ নেই: আখতার হোসেন

গহীন অরণ্যে স্বস্তির আলো: ফ্যামিলি কার্ডে হাসছে বদনীভাঙ্গার নারীরা

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, June 18, 2026
  • 41 Time View

সবুজ শালবনের গভীরতা আর প্রকৃতির নীরবতায় ঘেরা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বদনীভাঙ্গা। দীর্ঘদিন ধরে নানা সুবিধা থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন এই জনপদে এবার পৌঁছেছে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’। আর এই কার্ড হাতে পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছেন গ্রামের শতাধিক নারী।

বুধবার (১৭ জুন) বদনীভাঙ্গা গ্রামে আয়োজিত হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে কার্ড তুলে দেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তবে কার্ড বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। ডিজিটাল সেবার সুফল যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে ভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে উপকারভোগীদের কার্ড ব্যবহারের বিভিন্ন দিক হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেন।

জেলা প্রশাসক নারীদের কার্ডের ব্যালেন্স যাচাই, মোবাইলের মাধ্যমে তথ্য জানার পদ্ধতি এবং নিরাপদে কার্ড ব্যবহারের কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ জেলা কর্মকর্তার কাছ থেকে সরাসরি এমন প্রশিক্ষণ পেয়ে গ্রামীণ নারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

উপকারভোগীরা জানান, ফ্যামিলি কার্ড তাদের জন্য শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়; বরং প্রয়োজনের সময়ে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। কার্ডের সুবিধা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক নারী বলেন, আগে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে তারা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসকের সরাসরি নির্দেশনা ও সহযোগিতায় তারা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।

 

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক এই প্রকল্প প্রান্তিক মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই এ সুবিধা পায়, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বদনীভাঙ্গার মা-বোনদের মুখের হাসিই আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

প্রত্যন্ত অরণ্যঘেরা বদনীভাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই আয়োজন শুধু একটি সরকারি কর্মসূচি নয়। বরং এটি ডিজিটাল সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। গ্রামের নারীদের উচ্ছ্বসিত মুখ আর আত্মবিশ্বাসী পদচারণায় যেন ফুটে উঠেছে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নতুন এক ছবি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com