আবদুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া আরও ১৪-১৫ জনকে মন্ত্রী করার কারণে আগে বিএনপির ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিত— বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেছেন গোলাম পরওয়ার। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ বিরোধীদের বিএনপি পুরস্কৃত করেনি? তারা বলে জামায়াতের ওপরে ভূত চেপেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, সরকার আর সরকারি দলের ওপরে ভূত চেপেছে। বিএনপি মহাসচিবের মাথায়ও ভূত চাপে। মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়কে সামনে এনে জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেন। বিভ্রান্তির মাধ্যমে দেশকে আবার ফ্যাসিবাদের হাতে তুলে দিতে চাইছেন। সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি– এটাই বিএনপির অবস্থান।
অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার কথা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, যে ভাষায় জামায়াতকে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে আমাদেরও প্রশ্ন আছে। সেই জবাবটা বিএনপিকে দিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরই স্বাধীন বাংলাদেশে অন্তত ১৫-১৬ জনকে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী-এমপি করেছেন, যারা একাত্তরে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে ছিলেন। কেন করেছিলেন– সেই জবাব দেন।
৩৬ দিনের কর্মসূচি
গোলাম পরওয়ার জানান, ২ থেকে ৯ জুলাই রাজধানীতে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়; জুলাইয়ের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ তারিখে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকার দুই মহানগরীর উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
১৮ থেকে ৩১ জুলাই সারাদেশে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, স্মৃতিবিজড়িত স্থানে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া; ১ আগস্ট মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গণমিছিল; ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচি এবং ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশের জেলা, মহানগর ও উপজেলায় ১১ দল ঘোষিত সমাবেশ ও মিছিলে অংশগ্রহণ করবে জামায়াত। একই দিনে দলের মহিলা বিভাগ, ছাত্র সংগঠন এবং জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন ফোরামের গৃহীত কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়া হবে বলেও জানান পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে থেকে– জুলাই হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দ্রুত বিচার, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার এবং গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি করা হয়।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন– দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, আবদুল হালিম প্রমুখ।