আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার আলি আবদুল্লাহ বলেছেন, জানাজা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কোনো ধরনের হামলা চালালে তার ‘চরম প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে আমেরিকা ও জায়নবাদীদের যে কোনো ভুল পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিচ্ছি। দেশের বিরুদ্ধে হামলা বা আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করলে ওই দিনই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। চার মাসেরও বেশি সময় তার লাশ সংরক্ষণের পর রোববার ভোর থেকে রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরু হচ্ছে। এতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হবে। তেহরানসহ মোট পাঁচটি শহরে জানাজা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে দেড় কোটিরও বেশি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপুল এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরাইলি হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান।
খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের সেনা প্রধান, ইরানের পথে শাহবাজখামেনির দাফন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের সেনা প্রধান, ইরানের পথে শাহবাজ
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হলেও তিনি মার্কিন হামলায় গুরুতর আহত হন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বাবার জানাজায় সরাসরি অংশ নেবেন না বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ইরান।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, খামেনির শেষকৃত্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান। বিশেষ করে মাশহাদে দাফনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে হামলার আশঙ্কার কথাও তারা উল্লেখ করছেন।
এদিকে শেষকৃত্যের সময় নির্বাচন নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। কারণ, তেহরানে খামেনির জানাজা শুরু হওয়ার সময়ই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের (সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল) আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাঁচ দিনব্যাপী বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওয়াশিংটনের সমান্তরালে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে এই বৃহৎ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা রাজনৈতিক জল্পনাও তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা