আঞ্চলিক বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র হচ্ছে চট্টগ্রাম: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী
Reporter Name
Update Time :
Sunday, July 5, 2026
20 Time View
আঞ্চলিক বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র হচ্ছে চট্টগ্রাম: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী
চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল ও অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করতে সরকার ব্যাপক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বন্দর, বিমানবন্দর, ফ্রি জোন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রেল অবকাঠামোর যুগান্তকারী উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাজেটে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, "ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই অনেক...
চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল ও অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করতে সরকার ব্যাপক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বন্দর, বিমানবন্দর, ফ্রি জোন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রেল অবকাঠামোর যুগান্তকারী উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাজেটে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন,
”ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।”
মেগা প্রকল্প ও ফ্রি জোন
চট্টগ্রামের লজিস্টিক্যাল সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন:
নতুন ফ্রি জোন: কর্ণফুলী নদীর ওপারে প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি আধুনিক ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একাধিক বন্দর ও বিমানবন্দর উন্নয়ন: চট্টগ্রামে একাধিক নতুন বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার পাশাপাশি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি বৃহৎ কার্গো ও প্যাসেঞ্জার হাবে রূপান্তর করা হবে।
চাইনিজ ইকোনমিক জোন: এ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়াতে একটি বিশেষায়িত ‘চাইনিজ ইকোনমিক জোন’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ের আধুনিকায়ন: ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের চলমান উন্নয়ন কাজ শেষ হলে দুই শহরের ট্রেন যাত্রার সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে, যা বাণিজ্য সচল করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে যা পুরো চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক করিডরকে একটি শক্তিশালী লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত করবে।
ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার ও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য
বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির বৈশ্বিক প্রভাব। ফলে দেশের অর্থনীতিতে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন করা নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনীতিকে দ্রুত স্থিতিশীল করা। এরপর সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলোকে কাজে লাগানো হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে এই সংস্কারের ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে এবং বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে ১ ট্রিলিয়ন (এক লক্ষ কোটি) ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।
বিদেশি বিনিয়োগে ইতিবাচক সাড়া
বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে নাকচ করে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য। বর্তমানে দেশে প্রচুর বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI), ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ আসছে। ফলে বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।