বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই রাত সাড়ে নয়টার দিকে নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুরগামী রাস্তায় পুরুষ-নারী মিলে শতাধিক মানুষ গণপরিবহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। দূরের রাস্তায় কোনো টেম্পু দেখা না গেলেই সবাই তাকিয়ে থাকেন, একটুখানি গাড়ি এলে সামনের সারির যাত্রীরাই ছুটে উঠেন এবং বাকিরা আবারও অপেক্ষায় রইে যান। চাঁদনী চক মার্কেটে এক নারী পোশাকের দোকানে কর্মরত রোকসানা বেগম জানান, তিনি নীলক্ষেত থেকে টেম্পু করে নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে নামেন এবং সেখান থেকে হেঁটে কামরাঙ্গীরচরবাসি বাড়ি পৌঁছান; কয়েক দিনের থেমে থেমে বৃষ্টির ফলে এই ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ঐদিন রাজধানীতে ছোটখাট বৃষ্টি হচ্ছিল; নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকায় রাতের সময় গণপরিবহনের জন্য বৃহৎ ভিড় ছিল, কিন্তু বাস-টেম্পু ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা যথেষ্ট ছিল না। যাত্রীরা কোনো যানবাহন দেখলেই দ্রুত ছুটে যান এবং ভাড়ার দরকষাকষি শুরু করেন, যেখানে অন্যান্য দিনের তুলনায় ব্যাবস্থাও কম চোখে পড়েছে।
আজিমপুর-উত্তরা রুটের এক বাসচালক জানান, সিএনজি চালিত বহু বাস গ্যাসের সংকটের কারণে নিয়মিত চলাচল করছে না, যা যাত্রীদের কষ্ট বাড়াচ্ছে। চাঁদনী চক এলাকার একটি দোকানের মালিক বলেন, এই মার্কেটের বহু কর্মী লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অঞ্চলে সস্তা ভাড়ায় থাকেন, ফলে রাতে গণপরিবহনের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি আঘাত করে কর্মজীবী নারীদের। কিছু নারী যাত্রী জানান টেম্পুতে ওঠার সময় ঠেলা-ধাক্কা ও সঙ্গতিবিহীন আচরণকে তারা লজ্জাজনক মনে করেন, আবার বৃষ্টিতে রিকশা বা অটোরিকশার ভাড়া হঠাৎ বাড়ায় বাধ্য হয়ে বেশি খরচ করে বাড়ি ফিরেন। ভুক্তভোগীরা বাজার ও বিপণিবিতান থেকে রাতের নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও নিয়মিত গণপরিবহন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।