রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ঘোষণার পর রাজধানীর বঙ্গভবনের সামনে ব্যাপকসংখ্যক সাংবাদিক ও কৌতূহলী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি বাসভবন হিসেবে বঙ্গভবনের প্রবেশপথে কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখা হলেও অতিরঞ্জিত পরিস্থিতি নেই। সাংবাদিকদের বঙ্গভবনের সামনের চত্বরের উত্তর পাশে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি; তারা রাজউক ভবনের দক্ষিণ গেটের পাশে অবস্থান নেন। প্রবেশদ্বারে কাঁটাতারের ব্যারিকেড দেখা গেলেও পূর্ব পাশে ছোট একটি পথ খোলা রাখা হয়েছে, আর অভ্যন্তরে সামনের চত্বরটি বেশ নিস্তব্ধ—দীর্ঘ সময় অন্তর দু’একটি গাড়ি ঢোকে বা বের হয়।
বঙ্গভবনের সামনে তিনটি সড়কের মিলনস্থলে যানজটও গড়িয়ে উঠেছে। জিপিও মোড় থেকে আসা যানবাহনগুলো বঙ্গভবনের সামনে মোড় ঘুরে ফ্লাইওভারে উঠে যায়, অপরদিকের যানবাহন দৈনিক বাংলা মোড়ের পথে গুলিস্তানের দিকে যায়; দুই দিকের চাপ একসঙ্গে পড়ায় মোড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং ট্রাফিক পুলিশ দুইপাশেই টানা কাজ করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
এ সময় উপস্থিতদের মধ্যে কোথাও পরিচিত তথ্য না থাকায় রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ভেতরে আছেন কি না বা সিএমএইচে আছেন বলে যে কথাগুলো শোনা গেল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন এবং একই দিন তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা ও সম্প্রতি সনাক্ত হওয়া অটোনমিক নিউরোপ্যাথির কথা উল্লেখ করেছেন, যা মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়ার কারণ হচ্ছিল; দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি পদের দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম বলে তাতে বলা হয়েছে। ২৪ এপ্রিল ২০২৩ সালে তিনি বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করেন; অ্যাওয়ামি লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া ওই মেয়াদটি মূলত ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকায় সচল থাকতে পারতেন, কিন্তু অসুস্থতার কারণে আগে পদত্যাগ করেছেন।