কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির ফলে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ সাময়িকভাবে সংকুচিত হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, ফলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকরা বিভিন্ন মাত্রার সংকটে পড়েছেন।
রাজধানীসহ অন্যান্য এলাকায় গৃহিণীরারা গ্যাসের কম চাপের কারণে রান্না-রান্নায় ব্যাহত হচ্ছেন; অনেকেই বাহ্যিকভাবে খাবার কিনছেন বা বিদ্যুৎ, এলপিজি ও মাটির চুলার মতো বিকল্প ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে; ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস না পেয়ে আয়ের ক্ষতিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন হ্রাস বা আংশিক স্থগিত রয়েছে, ফলে কর্মচারীদের কাজেও প্রভাব পড়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায় সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদ ও সংস্থা দ্রুত মেরামত করছে এবং সীমিত সরবরাহের মধ্যে জরুরি খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। তিতাস জানিয়েছে বর্তমানে তারা প্রায় ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট পাচ্ছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট; এফএসআরইউ নষ্ট হওয়া আগে যে পরিমাণ মিলত সেই ছিল ১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং তাতে থেকে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে যাওয়ায় অন্য খাতে ছিল প্রায় ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে ন্যূনতম প্রয়োজন ছিল ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট—ফলে মেরামত হলে ও সরবরাহ বেড়লেও দৈনন্দিন ২০০–২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের ঘাটতি থেকে যায়।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রস্তাবে বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন জানিয়েছেন অন্তত ১৫ দিনের স্টোরেজ ব্যবস্থা ও আরেকটি—সর্বোত্তমভাবে ল্যান্ডবেজড—এফএসআরইউ জরুরি। সরকারের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খনন ত্বরান্বিত করা (পর্যায়ক্রমে ১০০ কূপসহ নিকটস্থ প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দ) এবং আমদানি-অবকাঠামো ও উৎস বহুমুখীকরণ, পাশাপাশি আরো একটি এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান প্রভৃতি।