আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে এক অননুকরণীয় সিদ্ধান্তে প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—সদস্য রাষ্ট্রদের গণভোটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটাভুটিতে ৮২টি দেশ তাঁর অপসারণের পক্ষে ভোট দিলে ১৫টি দেশ বিরত ছিল এবং মাত্র ১৩টি দেশ করিম খানের পক্ষে অবস্থান করে।
করিম খান বাড়বাড়ন্তের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে আসছেন এবং নিজেকে রক্ষা করার সুযোগ পাননি বলে আইনজীবীরা দাবি করেছেন। তিনি ভোটের সময় উপস্থিত ছিলেন না; সূত্রে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি সেখানে যেতে পারেননি—এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার এক কারণ হিসেবে তিনি ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার বিষয়টিকে দেখানো হয়। ১৪০টি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনের জোটও আদালতকে রাজনৈতিক চাপের সামনে নতিশির করতে বাধ্য হওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, করিম খান গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করছিলেন এবং ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রস্তাব করেছিলেন। এরপর থেকে ইসরায়েল ও তার মিত্ররা তদন্ত বন্ধ করার জন্য চাপ বাড়ায়; ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন করিম খান ও অন্যান্য কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং আদালতকেও লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া রিপোর্টে বলা হয়েছে সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও তাকে ফোন করে পরোয়ানা না জারির দিক নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ও অর্থায়ন বন্ধের আশঙ্কা উত্থাপন করেছিলেন। করিম খানকে আত্মপক্ষ উল্লেখের পূর্ণ সুযোগ না দিয়ে অপসারণ আন্তর্জাতিক আদালতের ভবিষ্যৎ ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে।